ফ্রান্সে রেসিডেন্স পারমিট জটিলতা: আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন বিদেশিরা

France residence permit problem

ফ্রান্সে রেসিডেন্স পারমিট নবায়ন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নানা ত্রুটির কারণে বিদেশিরা ক্রমেই প্রশাসনিক আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। প্রেফেকচুরগুলোর পক্ষ থেকে সময়মতো সাড়া না পাওয়ায় অভিবাসী সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসনিক বিচারব্যবস্থার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের প্রশাসনিক আদালতগুলোতে অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রশাসনিক বিচার বিভাগের একটি সংগঠনের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৪টি আবেদন জমা পড়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল সংখ্যক মামলার বড় অংশই প্রেফেকচুরের প্রশাসনিক জটিলতা এবং অনলাইন সিস্টেমের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফ্রান্সে বিদেশিদের রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত অধিকাংশ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখন এএনইএফ (ANEF) নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

অনলাইনে পুরো প্রক্রিয়া স্থানান্তরের পর অনেক বিদেশি বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। কখনও পরিচয় নম্বর সিস্টেমে স্বীকৃত হচ্ছে না, আবার কখনও ঠিকানা পরিবর্তনের মতো সাধারণ তথ্যও সঠিকভাবে আপডেট করা যাচ্ছে না। এসব ছোট সমস্যার কারণে পুরো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আটকে যাচ্ছে।

এছাড়া অনলাইন সিস্টেমে ত্রুটি থাকলেও সরাসরি কোনো মানবিক সহায়তা না পাওয়ায় বিদেশিদের জন্য বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অনেকে প্রেফেকচুরে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারছেন না কিংবা নির্ধারিত সময়ে রেসিডেন্স পারমিট নবায়ন করতে পারছেন না।

অনেক বিদেশি জানান, তারা বিভিন্নভাবে প্রেফেকচুরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোনো উত্তর পান না। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো পথ থাকে না।

আইন অনুযায়ী, বেশিরভাগ রেসিডেন্স পারমিট আবেদনের ক্ষেত্রে প্রেফেকচুরের চার মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পেতে কয়েক মাসেরও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।

বৈধ রেসিডেন্স নথি না থাকলে বিদেশিদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজও বন্ধ হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, স্বাস্থ্যবিমায় নিবন্ধন করতে হলে বৈধ অবস্থার প্রমাণ দিতে হয়। অনেক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রেও বৈধ অবস্থার নথি চায়।

ফলে অনেক বিদেশি নিয়মিত অবস্থায় থাকলেও কাগজপত্র নবায়ন করতে না পারায় তাদের চাকরি, সামাজিক সুবিধা এবং দৈনন্দিন জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

আদালতে মামলা করা অনেক সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে সহায়তা করলেও সব ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান পাওয়া যায় না। সাধারণ মামলার ক্ষেত্রে আদালতের রায় পেতে ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে আদালত প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিলেও জনবল সংকটসহ নানা কারণে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং প্রশাসনিক সাড়া দ্রুত নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আদালতে অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।