ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের আমেনদোলারা এলাকায় চার পাকিস্তানি কৃষিশ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অস্বাস্থ্যকর আবাসন ব্যবস্থা ও বেতন সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।
সোমবার সংঘটিত এই ঘটনায় দুই পাকিস্তানি নাগরিক—আহমেদ সাফির ও আলী রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে ইতালীয় পুলিশ। আদালতের আদেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা নীরবতা বজায় রেখেছেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে নিহতদের একজনের সঙ্গে অভিযুক্ত সাফিরের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিকরা একটি কক্ষে ১০ জন করে থাকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই বিরোধের জেরেই পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে সাফির আহত হলে পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।
পরে একটি গ্যাস স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়।
কোসেঞ্জা পুলিশের প্রধান আন্তোনিও বোরেল্লি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটি ছিল অবর্ণনীয় নিষ্ঠুর ও অমানবিক ঘটনা। মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পারা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও চার তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু গভীর শোকের বিষয়।”
অন্যদিকে, বেঁচে যাওয়া এক শ্রমিক ইতালীয় গণমাধ্যমকে জানান, শ্রমিকরা ন্যায্য চুক্তি ও বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রতিবাদ করেছিলেন। তার দাবি, এপ্রিল মাস থেকে তারা কোনো বেতন পাননি।
ঘটনার পেছনে শ্রমিক নিয়োগ সিন্ডিকেট বা ‘গ্যাংমাস্টার’ চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। তবে কাস্ত্রোভিল্লারি প্রসিকিউটর আলেসান্দ্রো ডি’আলেসিও জানিয়েছেন, এখনই কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তদন্তকারীরা জানান, নিহত চারজনই বৈধ কাগজপত্রসহ ইতালিতে বসবাস করছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না।
অগ্নিকাণ্ডের পর দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলে একটি পুড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলটি ছিল পুরনো স্টেট রোড ১০৬-এর পাশে অবস্থিত একটি আইপি পেট্রোল স্টেশন।
পুলিশ বলছে, এটি দুর্ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার উদ্দেশ্য, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার পরিবেশ এবং সম্ভাব্য শ্রম শোষণের বিষয়গুলো এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
