কোরিয়াগামী কর্মীর সঙ্গে ১৬ লাখ টাকা প্রতারণার চেষ্টা, রাজশাহীতে চক্রের মূলহোতা আটক

boesl-south-korea-worker-fraud

সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং রাজশাহী জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এক প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানাধীন নওদাপাড়া আমচত্বর মোড় এলাকা থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তির নাম আহসান হাবীব (৪০)। তিনি রাজশাহীর পবা থানার ঘোড়াহাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। বোয়েসেল সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়াগামী কর্মীর কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগী মো. মেরাজ আলী (২১) রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার জন্য ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে আবেদন করেন। পরে ভাষা পরীক্ষা, স্কিল টেস্ট ও মেডিকেল সম্পন্ন করে সফলভাবে রোস্টারভুক্ত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই তথ্য কৌশলে সংগ্রহ করে প্রতারক চক্রটি।

গত ১৪ জুন ২০২৬ আহসান হাবীব ভুক্তভোগী মেরাজ আলীর বাড়িতে যান। সেখানে তিনি কোরিয়ান একটি কোম্পানির ভুয়া কাগজ দেখিয়ে দাবি করেন, ১৬ লাখ টাকা না দিলে মেরাজের ভিসা বাতিল করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভিসা প্রাপ্তির শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে অগ্রিম ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মেরাজ আলী ১৫ জুন ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনে অবস্থিত বোয়েসেল কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। বোয়েসেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ায় এভাবে কোনো চুক্তির মাধ্যমে কর্মী যাওয়ার সুযোগ নেই। এটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ হতে পারে বলে তাঁকে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরে প্রতারকদের আইনের আওতায় আনতে একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর নওদাপাড়া আমচত্বর মোড়ের ডাচ-বাংলা এটিএম বুথের সামনে অগ্রিম টাকা নিতে আসেন আহসান হাবীব। এ সময় ছদ্মবেশে উপস্থিত ছিলেন বোয়েসেলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ) ও সিনিয়র সহকারী সচিব নু-এমং মারমা মং এবং ব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ-২) রিফাত তাহনীম। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আহসান হাবীব কোরিয়াগামী কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার কথা স্বীকার করেন বলে বোয়েসেল সূত্রে জানা গেছে। পরে আটক ব্যক্তিকে বোয়েসেল কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেরাজ আলী বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেন।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানো সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি নিয়মে হয়ে থাকে। এখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল বা এজেন্টের মাধ্যমে ভিসা পাওয়া বা বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যদি দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার নামে টাকা দাবি করে, ভিসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয় অথবা ভিসা বাতিলের ভয় দেখায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে বোয়েসেল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

বোয়েসেল কর্তৃপক্ষ কোরিয়াগামী কর্মী ও আবেদনকারীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারিত নিয়ম, পরীক্ষা, দক্ষতা যাচাই এবং রোস্টারের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। কোনো ব্যক্তিগত যোগাযোগ, ভুয়া চুক্তিপত্র বা এজেন্টের কথায় অর্থ লেনদেন না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।