কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কানাইঘাটের ৫ যুবকের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ

probashi kallyan Ministry

কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী যুবকের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানো এবং নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যায় ‘মন্ত্রীর মিডিয়া সেল’ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীর বরাতে বলা হয়, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শোকবার্তায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি নিহত ব্যক্তিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। দুপুরের দিকে স্বজনেরা দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন। নিহত ব্যক্তিরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই তাঁরা প্রাণ হারান বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।

কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল লতিফ নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানিয়েছেন। নিহতরা হলেন ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের সলিম উল্লাহর ছেলে মোস্তাক আহমদ (৩০), মৃত আহসান উল্লাহর ছেলে জুবায়ের আহমদ (৩০), আগতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০), আমরপুর গ্রামের আবদুন নূরের ছেলে জিবাল আহমদ (৩৬) এবং দক্ষিণবাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি নয়াগ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদির আহমদ (২৪)।

স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর তাঁদের মরদেহ কাতারের স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহ দেশে আনার খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতদের পরিবার ও স্বজনেরা। কানাইঘাটে একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসী যুবকের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস কাজ করছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

এই দুর্ঘটনা প্রবাসী কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জীবিকার তাগিদে বিদেশে থাকা প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও অনেক সময় কর্মস্থলে যাতায়াত ও শ্রমপরিবেশে নানা ঝুঁকির মুখে পড়েন।