পর্তুগালে অভিবাসন পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্সি মন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের (INE) হালনাগাদ জনসংখ্যা তথ্য প্রকাশের পর সোমবার তিনি এ মন্তব্য করেন।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালের মোট আবাসিক জনসংখ্যা ১ কোটি ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৩১ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩৯ জন। অর্থাৎ দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ এখন বিদেশি নাগরিক।
প্রেসিডেন্সি মন্ত্রী বলেন, INE-এর নতুন তথ্য দেখাচ্ছে যে অভিবাসন এখন নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি সরকারের অভিবাসন নীতির পরিবর্তনকে এর পেছনের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, আগের নীতির তুলনায় বর্তমান ব্যবস্থা অভিবাসন প্রবাহকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও সংগঠিত করেছে।
পর্তুগালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসী জনসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে ব্রাজিল, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকার পর্তুগিজভাষী দেশ এবং অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ, পড়াশোনা ও বসবাসের উদ্দেশ্যে পর্তুগালে গেছেন। এ কারণে দেশটির অভিবাসন, আবাসন, শ্রমবাজার এবং সামাজিক সেবার ওপর চাপ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বেড়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অভিবাসন বন্ধ করা নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই তাদের লক্ষ্য। শ্রমবাজারের চাহিদা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং অভিবাসীদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নীতি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা এখন পর্তুগালের জনসংখ্যার বড় অংশে পরিণত হয়েছে। তবে সরকার বলছে, নতুন নীতির ফলে অভিবাসনের প্রবাহে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বের জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তি এবং বৈধ বসবাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
পর্তুগালে অভিবাসন ইস্যু সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের নীতির সমালোচনা করলেও সরকার বলছে, অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা জরুরি। একদিকে দেশের শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে, অন্যদিকে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
নতুন তথ্য প্রকাশের পর অভিবাসন নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা, বৈধতার প্রক্রিয়া, নাগরিকত্ব আইন, পরিবার পুনর্মিলন এবং শ্রমবাজারে অভিবাসীদের ভূমিকা নিয়ে পর্তুগালে আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে।
