দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে প্রায় সব বড় অর্জনই নিজের ঝুলিতে তুলেছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু একটি অপূর্ণতা এতদিন রয়ে গিয়েছিল—ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনোই মাঠে নামা হয়নি আর্জেন্টাইন মহাতারকার। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।
২০০৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় মেসির। তার আগে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। একই বছরের আগস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হলেও মাঠে নামার মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মাথায় লাল কার্ড দেখে হতাশাজনকভাবে শুরু হয়েছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
ওই লাল কার্ডের কারণেই তিন মাস পর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারেননি মেসি। এরপর দুই দেশের আর কোনো ম্যাচ না হওয়ায় এতদিন ইংলিশদের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তার।
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর মেসি বলেন, “ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সব দলের বিপক্ষেই আমি খেলেছি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা বিশেষ, কারণ তারা একটি বড় ফুটবল শক্তি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলতে পারা সবসময়ই দারুণ ব্যাপার।”
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন মেসি। এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার আশা করছেন তিনি।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ মানেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে ওঠে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনাল। ওই ম্যাচে ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে করা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। ৩২টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১।
ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করেছিলেন। যদিও শেষ ম্যাচে সতীর্থদের সুযোগ করে দেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ ছিল তার।
এবার ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠবে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও আরও একধাপ এগিয়ে যাবে আলবিসেলেস্তেরা।
ব্যক্তিগতভাবেও নতুন এক রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি। সেমিফাইনাল জয়ের মাধ্যমে তিনি টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়তে পারেন, যা এর আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুল-ব্যাক কাফু ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে অর্জন করেছিলেন।
