যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর জন্য নির্ধারিত কিছু অভিবাসীর আপিলের অধিকার সীমিত করার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছেন। আদালত বলেছেন, মানবপাচারের শিকার হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের দেশত্যাগের আগে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ না দেওয়া আইনসঙ্গত ছিল না।
হাইকোর্টের বিচারপতি ক্লাইভ শেলডন রায়ে বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া সরকারি নির্দেশনা যুক্তরাজ্যের আধুনিক দাসত্ব ও মানবপাচারবিরোধী নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই আগের ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা জরুরি।
বিচারপতি উল্লেখ করেন, যাদের প্রথমে মানবপাচারের শিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রে পরবর্তী পুনর্বিবেচনায় সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে। ফলে আপিলের সুযোগ না দিয়ে তাদের ফেরত পাঠানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
সরকারের আপিলের সিদ্ধান্ত
রায়ের পর যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Home Office) জানিয়েছে, তারা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, ‘ওয়ান-ইন, ওয়ান-আউট’ কর্মসূচির আওতায় ফ্রান্সে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আপাতত চালু থাকবে।
সরকারের দাবি, অনেক অভিবাসী বহিষ্কার ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে মানবপাচারের অভিযোগ তুলে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করছেন। তবে সীমান্তে পৌঁছানোর সময় করা দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় বলেও জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত বছর পাঁচজন আশ্রয়প্রার্থী এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন। তাদের আইনজীবীরা রায়কে স্বাগত জানালেও বলেছেন, অনেক আবেদনকারীকে ইতোমধ্যে যথাযথ শুনানির সুযোগ না দিয়েই ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আদালতের অনুমতি নিয়ে পরিচয় গোপন রাখা এক আবেদনকারী লিখিত বক্তব্যে বলেন, নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ না দিয়েই তাকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
তার ভাষায়, “নিরাপত্তার আশায় যুক্তরাজ্যে আসার পরও এমন আচরণের শিকার হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। মনে হয়েছে সবাইকে সমানভাবে দেখা হয় না।”
‘ওয়ান-ইন, ওয়ান-আউট’ চুক্তি কী?
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে হওয়া ‘ওয়ান-ইন, ওয়ান-আউট’ চুক্তির আওতায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা নির্দিষ্ট অভিবাসীদের ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো যায়।
বিনিময়ে, ফ্রান্স থেকে এমন একজন অভিবাসীকে যুক্তরাজ্য গ্রহণ করে, যিনি ছোট নৌকায় চ্যানেল পার হওয়ার চেষ্টা করেননি এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে।
এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে বিপজ্জনক নৌযাত্রা নিরুৎসাহিত করা।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় ৩৭৭ জন অভিবাসীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে ফ্রান্স থেকে ৩৮০ জন অভিবাসী বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হাইকোর্টের এই রায় ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ছোট নৌকায় আগত অভিবাসীদের মানবপাচারের শিকার হওয়ার দাবির মূল্যায়নের ক্ষেত্রে।
