পর্তুগালে হাজারো অভিবাসীর ভুয়া বৈধকরণ কেলেঙ্কারি: দুই নারী কারাগারে, কর কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

portugal-immigration-fraud-court

পর্তুগালের কোইম্ব্রার একটি আদালত হাজারো বিদেশি নাগরিকের অভিবাসন বৈধকরণে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই নারীকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় কর (ট্যাক্স) অফিসের প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে হাজারো অভিবাসীর জন্য জাল কাগজপত্র তৈরি, অবৈধভাবে বসবাসের অনুমতি পাইয়ে দেওয়া, দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং অবৈধ অভিবাসনে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কারাগারে পাঠানো দুই নারী অন্য অভিযুক্ত বা মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারবেন না।

অন্যদিকে, স্থানীয় কর অফিসের প্রধানকে সরকারি দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কর অফিসে প্রবেশ এবং মামলার অন্য অভিযুক্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মামলার আরেক বিদেশি নাগরিক অভিযুক্তকে নিয়মিতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থিত হয়ে পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করতে হবে। তাকে দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

‘অপারেশন আটলান্টিক মিস্ট’

গত সপ্তাহে “অপারেশন নেবলিনা আটলান্টিকা (Atlantic Mist)” নামে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র কয়েক বছর ধরে হাজারো অভিবাসীর জন্য ভুয়া উপায়ে পর্তুগালে বসবাসের বৈধতা নিশ্চিত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসনে সহায়তার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ সংগঠন পরিচালনা, অবৈধ অভিবাসন সহজতর করা, দুর্নীতি এবং অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে।

আজ এক সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগালের বিচার বিভাগীয় পুলিশ (PJ)-এর সেন্ট্রাল রিজিওনাল ডিরেক্টর অ্যাভেলিনো লিমা জানান, এই অভিযানে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৫ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, পঞ্চম ব্যক্তিকে এই মামলার জন্য নয়, বরং নিষিদ্ধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে আলাদা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসীর অভিবাসন সংক্রান্ত নথি প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। অধিকাংশই ব্রাজিলের নাগরিক এবং বর্তমানে তারা পর্তুগালে নয়, বরং বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডে বসবাস করছেন।

কীভাবে চলত প্রতারণা

তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি নিজেদের বৈধ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিত। প্রতিটি আবেদন শুরু করার জন্য তারা অভিবাসীদের কাছ থেকে ২০০ ইউরো করে অগ্রিম নিত।

এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে কর শনাক্তকরণ নম্বর (NIF) তৈরি, প্রকৃত বা ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে চাকরির চুক্তি নিবন্ধন, এমনকি স্বনিযুক্ত (Self-employed) হিসেবে নিবন্ধন ও ভুয়া ইনভয়েস তৈরির ব্যবস্থাও করত।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রের কার্যক্রম ২০২২ সাল থেকেই চলছিল এবং তারা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করেও কাজ করেছে।

তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, মামলার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম সামনে আসতে পারে।

সূত্র: LUSA