খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে ২ কোটি মানুষের সমাগমের আশা

alikhamenei-funeral-grand-mosalla-tehran

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের আয়োজন শুরু হচ্ছে রাজধানী তেহরানে। সাত দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রথম পর্যায়ে শনিবার ও রোববার তাঁর মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। সেখানে সাধারণ মানুষ তাঁকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাবেন।

খামেনির জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানে তেহরানে দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যাশিতসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হলে এটি ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে পরিণত হতে পারে। শুক্রবার (৩ জুলাই) আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। াষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের কর্মসূচি অনুযায়ী, ৪ ও ৫ জুলাই গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ রাখা হবে। তাঁর সঙ্গে একই হামলায় নিহত পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহও সেখানে রাখা হবে।

এরপর ৬ জুলাই তেহরানের বিভিন্ন সড়কে মরদেহ নিয়ে শোকযাত্রা হওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে ইরানের শিয়া ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র কোম শহরে। ৮ জুলাই মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়। সবশেষে ৯ জুলাই খামেনির নিজ শহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাঁকে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে। াহ আলি খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ৩৬ বছরের বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর প্রথম দিনেই তেহরানে হামলায় তিনি নিহত হন। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। যুদ্ধ চলতে থাকায় কয়েক মাস ধরে তাঁর শেষকৃত্য স্থগিত ছিল। শেষকৃত্য ঘিরে তেহরান, মাশহাদসহ কয়েকটি শহরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শহরগুলোর আকাশসীমায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের কথাও জানিয়েছে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এ সময় নতুন কোনো হামলা না চালানোর বিষয়ে সতর্ক করেছে তেহরান। বার জানাজার নামাজে ইমামতি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তবে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে তাঁকে প্রকাশ্যে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহী।

বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকিম এলাহী বলেন, মোজতবা জনসমক্ষে এসে বাবার জানাজায় অংশ নিতে চেয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে এলে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই শেষকৃত্যের কর্মসূচিতে মোজতবার উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা কম। নির জানাজার নামাজ পড়ানোর জন্য কাউকে মনোনীত করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হাকিম এলাহী জানান, এখন পর্যন্ত কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিই জানাজার নামাজে নেতৃত্ব দিতেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্য ঘিরে বিপুল জনসমাগমের পাশাপাশি পদদলিত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। ১৯৮৯ সালে ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্যে বিশৃঙ্খলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানির জানাজাতেও পদদলিত হয়ে বহু মানুষ নিহত হন।