বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ইংল্যান্ডের। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে দুই গোল হজম করে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে থমাস টুখেলের দল। অন্যদিকে দারুণ প্রত্যাবর্তনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড দুর্দান্ত দক্ষতায় নিকো গনসালেসের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। অন্যদিকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে, ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় থাকে ম্যাচ।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় ইংল্যান্ড। ৫৫তম মিনিটে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে দূরের পোস্টে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। গোলের পর ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই ভাবতে শুরু করেন, ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে যাচ্ছে ইংলিশরা।
তবে শেষ মুহূর্তে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে আক্রমণের চাপ বাড়াতে থাকে এবং ৮৫তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান। এই গোল ম্যাচে নতুন প্রাণ এনে দেয় এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণে চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা।
যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে আসে সিদ্ধান্তসূচক মুহূর্ত। আর্জেন্টিনার আক্রমণ থেকে লাউতারো মার্টিনেজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠালে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি ইংল্যান্ড।
এই জয়ে ২০২২ সালের শিরোপাজয়ী আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করল। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে এবার তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।
অন্যদিকে সেমিফাইনালে হৃদয়ভাঙা হারের পর ইংল্যান্ডকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স।
বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের এই নাটকীয় জয় আবারও প্রমাণ করল, বড় ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।
