একদিকে সাত উইকেট, অন্যদিকে একটি দিন। আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনের সমীকরণ বাংলাদেশের জন্য যতটা সহজ, কাজটা ততটা সহজ হবে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন। বড় লক্ষ্য দিয়ে আফগানিস্তানকে চাপে রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু জয় পেতে আজ ভাঙতে হবে তাদের শেষ প্রতিরোধ।
৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় আফগানিস্তান চতুর্থ দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ১৩২ রানে। জিততে আরও ৩৪৭ রান প্রয়োজন তাদের। বাংলাদেশের দরকার সাতটি ভালো বল—কিংবা সাতটি সুযোগ কাজে লাগানো। সেদিকুল্লাহ আতাল ৩৫ ও হাশমতউল্লাহ শহীদি ১৯ রানে অপরাজিত থেকে আজ সেই সুযোগ যতটা সম্ভব কম দেওয়ার চেষ্টাই করবেন।
আবুধাবি টেস্টের স্কোর ও সর্বশেষ খবর জানতে দেখুন বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্টের লাইভ স্কোর ও আপডেট।
আফগানদের প্রতিরোধের সামর্থ্য অবশ্য গতকালই দেখা গেছে। রান তাড়ার শুরুতে ২৮ রানে দুই উইকেট হারিয়েও ভেঙে পড়েনি তারা। আতালকে নিয়ে রহমত শাহ তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৮২ রান। রানসংখ্যার চেয়েও বাংলাদেশের জন্য ভাবনার ছিল জুটির স্থায়িত্ব—২১৪ বল। শেষ দিনেও এমন জুটি গড়তে পারলে সময় ফুরিয়ে আনার সুযোগ পাবে আফগানিস্তান।
রহমতকে অবশ্য আর ফেরাতে হবে না বাংলাদেশকে। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১০৫ রান করা আফগান অধিনায়ক দ্বিতীয় ইনিংসে থেমেছেন ৫১ রানে। তাঁকে ফিরিয়েছেন এবাদত হোসেন। দিনের শেষ ভাগে পাওয়া সেই উইকেট বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির।
এর আগে আবদুল মালিককে ২ রানে ফিরিয়ে শুরুটা করে দিয়েছিলেন এবাদতই। শহীদুল্লাহ কামালকে ১৯ রানে ফেরান হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট নেওয়া হাসান ও এবাদতের পাশাপাশি শেষ দিনে স্পিনারদের দিকেও তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। লিটন দাসও আশা করছেন, শেষ দিনের উইকেটে ভূমিকা রাখবেন স্পিনাররা।
লিটন নিজের কাজটা করেছেন ব্যাট হাতে। চতুর্থ দিনের শুরুতে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ২২৩। সেখান থেকে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ১৪৯ রানের জুটি গড়ে আফগানদের লক্ষ্যটা আরও দূরে ঠেলে দেন তিনি। ১১৭ বলে ১০২ রানের ইনিংসের পর লিটন ফিরতেই ৭ উইকেটে ৩৭২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। মিরাজ তখন অপরাজিত ৫২ রানে।
প্রথম ইনিংসের ১০৬ রানের অগ্রগতি থাকায় লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯। বড় সংগ্রহের ভিত অবশ্য আগেই গড়ে দিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় ইনিংসে শান্ত করেন ৮২, মুশফিক ৮১।
আজ বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য আতাল–শহীদি জুটি। গতকাল ১২৬ বল খেলে অপরাজিত থাকা আতাল বুঝিয়েছেন, তাঁকে ফেরাতে ধৈর্য লাগবে। সেই ধৈর্যের পরীক্ষায় বাংলাদেশের বোলাররা কতটা সফল হন, তার ওপরই নির্ভর করছে সাত উইকেটের অপেক্ষা কত দীর্ঘ হবে।
