অবৈধ অভিবাসীদের আইনি সহায়তায় বৈষম্যের অভিযোগে পর্তুগালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে EC

eu-commission-portugal-legal-aid-case

অভিবাসী ও বিদেশি নাগরিকদের আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার সীমিত করার অভিযোগে পর্তুগালের বিরুদ্ধে লঙ্ঘন (ইনফ্রিঞ্জমেন্ট) প্রক্রিয়া শুরু করেছে European Commission। ইউরোপীয় আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটিকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশন বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জুন মাসের ইনফ্রিঞ্জমেন্ট প্যাকেজে জানায়, পর্তুগালের পাশাপাশি Bulgaria ও Poland-এর বিরুদ্ধেও আইনি সহায়তা সংক্রান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধান সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে।

কমিশনের মতে, ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী কোনো সন্দেহভাজন বা অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে দ্রুত আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।

তবে কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পর্তুগালের জাতীয় আইন নিশ্চিত করে না যে অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদের আগে বা গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার পূর্বে বিলম্ব ছাড়াই আইনি সহায়তা পাবেন।

এছাড়া সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক শর্ত আরোপের অভিযোগ।

কমিশন বলেছে, ইউরোপীয় নির্দেশনা অনুযায়ী নাগরিকত্ব বা জাতীয়তা নির্বিশেষে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু পর্তুগালের আইন অনুযায়ী, বৈধ আবাসিক অনুমতিপত্র (রেসিডেন্স পারমিট) না থাকা বিদেশি নাগরিকদের আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

কমিশন আরও জানিয়েছে, পর্তুগালের আইনে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়নি যে পর্তুগাল কর্তৃক জারি করা ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে অন্য কোনো সদস্য রাষ্ট্রে আটক ব্যক্তিরাও আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার ভোগ করবেন।

দুই মাস সময় পেল পর্তুগাল

এই পদক্ষেপ ইনফ্রিঞ্জমেন্ট প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। এখন পর্তুগালকে দুই মাসের মধ্যে ইউরোপীয় কমিশনের অভিযোগের জবাব দিতে হবে এবং চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধনের পদক্ষেপ জানাতে হবে।

কমিশন সতর্ক করেছে, জবাব সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী ধাপে ‘রিজনড ওপিনিয়ন’ বা আনুষ্ঠানিক আইনি মতামত জারি করা হতে পারে, যা ইনফ্রিঞ্জমেন্ট প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ।

বর্তমানে বুলগেরিয়া ও পোল্যান্ড ইতোমধ্যে সেই দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগাল অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আইনি সহায়তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত এই অভিযোগ দেশটির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশন বারবার জোর দিয়ে বলছে, নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মৌলিক অধিকার এবং ন্যায়বিচারের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্র: LUSA