পর্তুগালে দেশব্যাপী ধর্মঘট, স্থবির ট্রেন ও বিমান চলাচল

portugal-general-strike-lisbon-june

সরকারের প্রস্তাবিত নতুন শ্রম আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে পর্তুগালের পরিবহন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাত। শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সিজিটিপি (CGTP) এই ধর্মঘটের ডাক দেয়। ফলে বুধবার (৩ জুন) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় সময় বুধবার ভোর থেকেই রাজধানী লিসবনসহ বিভিন্ন শহরে ট্রেন ও মেট্রো সেবা বন্ধ হয়ে যায়। লিসবন থেকে কোনো দূরপাল্লার ট্রেন ছেড়ে যায়নি এবং শহরেও কোনো ট্রেন প্রবেশ করেনি। স্টেশনগুলোতে পৌঁছে অনেক যাত্রী ট্রেন বাতিলের খবর পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকা এই ধর্মঘটের কারণে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, লিসবনের মেট্রো সেবা স্থগিত থাকে এবং শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মচারীর সংকটে দেশের বিভিন্ন স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। নার্সদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালগুলোতে অধিকাংশ অস্ত্রোপচার ও নির্ধারিত চিকিৎসা সেবা স্থগিত করা হয়েছে।

পর্তুগালের সংখ্যালঘু মধ্য-ডানপন্থী সরকার শ্রম আইন সংস্কারের একটি বিল পাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকার আশা করছে, ডানপন্থী দল চেগার সমর্থনে বিলটি সংসদে অনুমোদন পাবে। প্রস্তাবিত সংস্কারে শ্রম আইনের ১০০টিরও বেশি ধারা পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের দাবি, এসব পরিবর্তন উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।

তবে দেশটির বৃহত্তম শ্রমিক জোট সিজিটিপি (CGTP) এই সংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করছে। সংগঠনটির নেতা তিয়াগো অলিভেইরা বলেছেন, নতুন আইন শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা কমাবে, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান বাড়াবে, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবে এবং ধর্মঘট ও অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত অধিকার সীমিত করবে।

ধর্মঘটে অংশ নেওয়া তরুণ ব্যাংক কর্মকর্তা রদ্রিগো আজেভেদো বলেন, নতুন শ্রমনীতি কার্যকর হলে তরুণ কর্মীরা আজীবন অস্থায়ী চুক্তির মধ্যে আটকে পড়বেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের পরিবর্তে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ছাড়া ৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হতে পারে এবং কর্মীদের সহজেই ছাঁটাই করে কম খরচে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কোম্পানি সিপি (CP) দূরপাল্লার সব ট্রেন এবং অধিকাংশ আঞ্চলিক ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখে। জাতীয় বিমান সংস্থা ট্যাপ এয়ার পর্তুগাল (TAP) জানিয়েছে, প্রতিদিনের স্বাভাবিক ৩০০টির বেশি ফ্লাইটের মধ্যে মাত্র ৭৯টি পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে স্প্যানিশ বিমান সংস্থা আইবেরিয়াও তাদের ফ্লাইট পরিচালনায় ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

তবে শ্রমমন্ত্রী মারিয়া দো রোজারিও রামালহো দাবি করেছেন, বেসরকারি খাতের কর্মীদের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। তাঁর মতে, দেশের অধিকাংশ শ্রমিক কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং ধর্মঘটের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি থেমে যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে পর্তুগালে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মী এবং বিদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন শ্রমনীতি ভবিষ্যতে কর্মপরিবেশ ও চাকরির নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।