পর্তুগালে ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে আগমনের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ লাখ ৭৫ হাজার। আগে এই সংখ্যা ধরা হয়েছিল প্রায় ৬ লাখ ৩১ হাজার। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা আইএনই হিসাবের পদ্ধতি পরিবর্তন করায় অভিবাসনের চিত্রে এই বড় পার্থক্য উঠে এসেছে।
সংশোধিত হিসাবে চার বছরে মোট ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৪০৯টি আগমন নথিভুক্ত হয়েছে। আগের হিসাবের তুলনায় তা ৯ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৮ বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ। সংশোধিত বার্ষিক সংখ্যাগুলো আইএনইর তথ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানভান্ডার পরডাটাতেও প্রকাশিত হয়েছে।
এই হিসাব শুধু বিদেশি নাগরিকদের নয়। বিদেশ থেকে পর্তুগালে বসবাস করতে আসা পর্তুগিজ নাগরিকেরাও এর অন্তর্ভুক্ত। আবার চার বছরের যোগফলকে ওই সময় শেষে দেশে অবস্থানরত মোট অভিবাসীর সংখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সবচেয়ে বেশি আগমন ২০২২ সালে
নতুন হিসাবে সবচেয়ে বড় সংশোধন হয়েছে ২০২২ সালের তথ্যে। ওই বছর আগমনের সংখ্যা আগে ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮। সংশোধনের পর তা বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৭৯। ফলে আলোচিত চার বছরের মধ্যে অভিবাসনের সর্বোচ্চ বছর হিসেবে ২০২৩ সালের পরিবর্তে উঠে এসেছে ২০২২ সাল।
| বছর | আগের হিসাব | সংশোধিত হিসাব |
|---|---|---|
| ২০২১ | ৯৭,১১৯ | ২,২২,৭৭৫ |
| ২০২২ | ১,৬৭,০৯৮ | ৪,৯৫,৯৭৯ |
| ২০২৩ | ১,৮৯,৩৬৭ | ৪,৬১,৭৫১ |
| ২০২৪ | ১,৭৭,৫৫৭ | ৩,৯৪,৯০৪ |
| মোট | ৬,৩১,১৪১ | ১৫,৭৫,৪০৯ |
সংশোধিত হিসাবে চার বছরে দৈনিক গড় আগমন ছিল প্রায় ১ হাজার ৭৮টি। তবে এটি বার্ষিক অভিবাসনের তথ্য থেকে বের করা গড়; প্রতিদিনের বিমানবন্দর বা সীমান্তে প্রবেশের সরাসরি গণনা নয়।
হিসাবে এত পরিবর্তন কেন
আইএনইর নতুন পদ্ধতিতে জরিপের ওপর নির্ভরতার পরিবর্তে বিভিন্ন প্রশাসনিক নথি মিলিয়ে তথ্য সংগ্রহে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর কর্তৃপক্ষ, সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগ, নাগরিক পরিচয়সংক্রান্ত সেবা, শিক্ষাব্যবস্থা এবং অভিবাসন সংস্থা আইমার তথ্য এতে যুক্ত করা হয়েছে।
আইমার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত আবেদন নিষ্পত্তির সময় পাওয়া তথ্যও সংশোধিত হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব তথ্য যে বছর হাতে এসেছে, সেই বছরে সব আগমন দেখানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মূলত যে বছর পর্তুগালে এসেছিলেন, সেই বছরের হিসাবে তা যুক্ত করা হয়েছে।
অর্থাৎ পরিসংখ্যানের এই বৃদ্ধি নতুন করে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনের খবর নয়; আগে আসা মানুষের তথ্য আরও পূর্ণাঙ্গভাবে হিসাবের মধ্যে আনার ফল।
২০২৫ সালে আগমন কমেছে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ
আগের বছরগুলোর হিসাব বাড়লেও ২০২৫ সালের তথ্য অভিবাসনের গতি কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওই বছর পর্তুগালে আগমন নথিভুক্ত হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৩টি। সংশোধিত ২০২৪ সালের তুলনায় তা প্রায় ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
বিদেশি নাগরিকদের আগমন কমেছে আরও বেশি। ২০২৪ সালে তাঁদের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ৩৮৬, যা ২০২৫ সালে নেমে আসে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৮৫-তে। কমার হার প্রায় ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
অন্যদিকে পর্তুগিজ নাগরিকদের আগমন ৯০ হাজার ৫১৬ থেকে কমে হয়েছে ৮৯ হাজার ৬৫৯। এই অংশে পরিবর্তন এক শতাংশেরও কম।
আবাসন ও সেবার চাহিদা বোঝার নতুন তথ্য
অভিবাসনের সংশোধিত পরিসংখ্যান পর্তুগালের বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ। অল্প সময়ে বেশি মানুষ বসবাস শুরু করলে এসব খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
তবে শুধু আগমনের সংখ্যা দিয়ে বাড়িভাড়া কতটা বেড়েছে কিংবা ঠিক কতটি নতুন বাসার প্রয়োজন হয়েছে, তা নির্ধারণ করা যায় না। নতুন বাসিন্দাদের কেউ একই বাসায় থাকেন, কেউ পরিবারের সঙ্গে যোগ দেন, আবার কেউ পরবর্তী সময়ে দেশ ছেড়ে চলে যান।
পর্তুগালে বসবাস ও কাজের প্রস্তুতি সম্পর্কে পড়ুন পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসার বিস্তারিত নির্দেশনা।
অভিবাসনের পাশাপাশি দেশত্যাগের হিসাবেও বড় সংশোধনের কথা উঠে এসেছে পাজিনা উমের বিশ্লেষণে। তাদের হিসাবে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালে স্থায়ীভাবে দেশ ছাড়ার সংখ্যা সংশোধনের পর দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২ হাজার ৩০০, যা আগে ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬১৫। এই পরিসংখ্যানে সব জাতীয়তার বাসিন্দা অন্তর্ভুক্ত; এটি শুধু পর্তুগিজ নাগরিকদের বিদেশে চলে যাওয়ার হিসাব নয়।
