পর্তুগালে রুম ভাড়ার চাহিদা ২৭% বেড়েছে, কমেছে সরবরাহ

portugal-room-rental-demand

পর্তুগালে বাড়ি ও রুম ভাড়া পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে। দেশজুড়ে শেয়ার করা বাসায় রুম ভাড়ার চাহিদা এক বছরের ব্যবধানে ২৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে বাজারে ভাড়ার জন্য থাকা রুমের সংখ্যা কমেছে ১১ শতাংশ।

দেশটির আবাসনবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম Idealista-এর সর্বশেষ বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উচ্চ বাড়িভাড়া ও বাড়ি কেনার বাড়তি খরচের কারণে অনেক মানুষ এখন পুরো বাসার পরিবর্তে একটি রুম ভাড়া নেওয়ার দিকে ঝুঁকছেন।

বিশেষ করে শিক্ষার্থী, তরুণ চাকরিজীবী এবং কাজের কারণে অন্য শহরে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে রুম ভাড়ার চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।

চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু রুম কমছে

Idealista-এর হিসাবে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পর্তুগালজুড়ে রুম ভাড়ার চাহিদা বেড়েছে ২৭ শতাংশ।

অন্যদিকে, একই সময়ে ভাড়ার জন্য উপলব্ধ রুমের সরবরাহ কমেছে ১১ শতাংশ। ফলে একটি রুমের জন্য আগের তুলনায় বেশি মানুষ প্রতিযোগিতা করছেন।

রুমের ভাড়া অবশ্য একই হারে বাড়েনি। ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে শেয়ার করা বাসায় রুমের মূল্য বেড়েছে গড়ে ১ শতাংশ।

Porto ও Coimbra-তে সবচেয়ে বেশি চাপ

দেশের বড় শহরগুলোর মধ্যে Porto এবং Coimbra-তে রুম পাওয়া সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠছে।

Porto-তে এক বছরের ব্যবধানে রুম ভাড়ার চাহিদা বেড়েছে ১০৪ শতাংশ। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে শহরটিতে উপলব্ধ রুমের সংখ্যা কমেছে ৪৩ শতাংশ।

Coimbra-তে পরিস্থিতি আরও চাপের। সেখানে রুম ভাড়ার চাহিদা বেড়েছে ১২০ শতাংশ, আর সরবরাহ কমেছে ৪৮ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় শহর হিসেবে পরিচিত Coimbra-তে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের বাড়তি চাহিদাও এই বাজারে চাপ তৈরি করছে।

Beja-তে চাহিদা বেড়েছে ১৬০ শতাংশ

চাহিদা বৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে Beja-তে। শহরটিতে রুম ভাড়া নেওয়ার আগ্রহ এক বছরে ১৬০ শতাংশ বেড়েছে।

এরপর রয়েছে Coimbra ১২০ শতাংশ, Porto ১০৪ শতাংশ, Évora ৮৭ শতাংশ, Viseu ৬৬ শতাংশ এবং Bragança ৬৪ শতাংশ।

Lisbon-এ রুম ভাড়ার চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম হারে বাড়লেও সেখানেও এক বছরে আগ্রহ বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

কিছু শহরে আবার চাহিদা কমেছে

পর্তুগালের সব শহরে একই প্রবণতা দেখা যায়নি।

Setúbal, Faro, Braga, Castelo Branco এবং Portalegre-সহ কয়েকটি শহরে আগের বছরের তুলনায় রুম ভাড়ার চাহিদা কমেছে।

Portalegre-তে চাহিদা কমেছে সবচেয়ে বেশি, ১৯ শতাংশ। Castelo Branco-তে কমেছে ১৪ শতাংশ এবং Braga-তে ১২ শতাংশ।

এ কারণে নতুন প্রবাসী বা শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু Lisbon ও Porto নয়, তুলনামূলক কম চাপের অন্য শহরগুলোও বিকল্প হতে পারে।

পুরো বাসা ভাড়াতেও প্রতিযোগিতা বাড়ছে

শুধু রুম নয়, পর্তুগালে পুরো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতা বাড়ছে।

Idealista-এর আরেকটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে একটি ভাড়ার বাসার বিজ্ঞাপনে গড়ে ২৪টি যোগাযোগ এসেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৩৬ শতাংশ বেশি।

Idealista-এর মুখপাত্র Ruben Marques-এর ভাষ্য অনুযায়ী, ভাড়ার বাজারে চাহিদা এখনো উপলব্ধ সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে নতুন একটি বাসা বাজারে আসার পরই বহু সম্ভাব্য ভাড়াটিয়া সেটির জন্য যোগাযোগ করছেন।

কেন রুম ভাড়ার দিকে ঝুঁকছেন মানুষ

পর্তুগালে বাড়িভাড়া ও সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেক মানুষের পক্ষে একা পুরো অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফলে আগে যেখানে রুম ভাড়া মূলত শিক্ষার্থী বা অল্প বয়সী কর্মীদের মধ্যে বেশি প্রচলিত ছিল, এখন চাকরিজীবী, আলাদা থাকা ব্যক্তি এবং সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যেও শেয়ার করা বাসায় থাকার প্রবণতা বাড়ছে।

এর আগে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের তথ্যেও দেখা গিয়েছিল, পর্তুগালে রুম ভাড়া এক বছরে গড়ে ৮ শতাংশ বেড়েছিল। Lisbon-এ বৃদ্ধি ছিল ১০ শতাংশ এবং Porto-তে ৭ শতাংশ।

নতুন প্রবাসীদের জন্য চ্যালেঞ্জ

পর্তুগালে নতুন আসা প্রবাসীদের জন্য বাসস্থান খোঁজা সাধারণত প্রথম দিকের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। বর্তমান বাজারে রুমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সেই চাপ আরও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে Lisbon, Porto এবং Coimbra-র মতো শহরে কম দামের একটি রুমের বিজ্ঞাপন প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক আগ্রহী ব্যক্তি যোগাযোগ করতে পারেন।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের ক্ষেত্রেও নতুন চাকরির জন্য শহর পরিবর্তন, পরিবার নিয়ে নতুন বাসা খোঁজা কিংবা প্রথমবার পর্তুগালে এসে থাকার জায়গা নেওয়ার সময় এই প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বর্তমান তথ্য বলছে, পর্তুগালে রুম ভাড়া এখন আর শুধু শিক্ষার্থীদের বিকল্প আবাসন নয়। বাড়িভাড়ার উচ্চমূল্যের কারণে এটি ক্রমেই চাকরিজীবী ও সীমিত আয়ের মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ আবাসন বিকল্প হয়ে উঠছে।