যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসের বেশি সময় ধরে আটক পর্তুগিজ নাগরিক, সরকারের কাছে জবাব চাইল LIVRE

portuguese-citizen-detained-ice-us-livre

যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে থাকা এক পর্তুগিজ নাগরিকের বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চেয়েছে দেশটির বামপন্থী রাজনৈতিক দল লিভরে (LIVRE)।

আটক ব্যক্তি ৩৯ বছর বয়সী হুগো ফ্রেইতাস দে সুজা। তিনি আজোরেসের তেরসেইরা দ্বীপের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করার পরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

পরিবারের বরাত দিয়ে লিভরে জানিয়েছে, আজোরেসে স্বল্প সময়ের সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্ত দিয়ে ফেরার সময় হুগোকে আটক করা হয়। সে সময় তার বৈধ ইএসটিএ অনুমোদন ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। আটক করার পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল ফোনগুলোও নিয়ে নেয়।

দলটির প্রশ্নে বলা হয়েছে, হুগো স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার নথিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে চলমান বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় কোনো আপত্তি জানাননি। তারপরও তিনি কেন আটক রয়েছেন, সে বিষয়ে তাকে কোনো পরিষ্কার তথ্য দেওয়া হয়নি।

পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে কয়েক দিন আগে হুগো অনশন শুরু করেন। তবে আজোরেসের আঞ্চলিক সরকারের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগের খবর পাওয়ার পর তিনি অনশন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছেন বলে জানা গেছে।

‘পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ কী করছে?’

হুগোর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্তুগাল সরকারের যোগাযোগ ও পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে লিভরে।

দলটি জানতে চেয়েছে, এখন পর্যন্ত মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট যোগাযোগ করা হয়েছে এবং হুগোর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত কি না।

বিশেষ করে অনশন শুরুর পর তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য, তাকে কী ধরনের কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে দলটি।

এ ছাড়া বৈধ প্রবেশের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কোন ভিত্তিতে হুগোকে আটক রেখেছে, সে বিষয়েও পর্তুগাল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছে লিভরে।

দলটির মূল প্রশ্ন, হুগোকে যত দ্রুত সম্ভব পর্তুগালে ফিরিয়ে আনতে পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

পরিবারের সঙ্গে পর্তুগাল সরকারের কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছে এবং তাদের কী তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে—সেটিও জানতে চেয়েছে লিভরে।

যুক্তরাষ্ট্রে কত পর্তুগিজ নাগরিক আটক?

লিভরে আরও জানতে চেয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে কতজন পর্তুগিজ নাগরিক রয়েছেন এবং আটক পর্তুগিজ নাগরিকদের কনস্যুলার সহায়তার বর্তমান পরিস্থিতি কী।

পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা হুগো ফ্রেইতাস দে সুজার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে তার দেশে ফেরার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে পর্তুগালের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিপির প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

এদিকে একই সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে ঘিরে আরও নানা বিতর্কের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে আটক ব্যক্তি ও বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম গ্লাভস কেনার জন্য প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনার খবরও এসেছে।

তথ্যসূত্র: লুসা, আজোরেস আরটিপি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস