সৌদি আরব ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি, সন্ত্রাসবাদ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসংক্রান্ত স্থানীয় আইনের কথা উল্লেখ করে সৌদি আরবের জন্য লেভেল-৩ ‘রেকনসিডার ট্রাভেল’ সতর্কতা বহাল রেখেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সর্বশেষ নির্দেশনাটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে হালনাগাদ করা হয়েছে।
বিশেষ করে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভ্রমণ না করতে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার জন্য সর্বোচ্চ লেভেল-৪ ‘ডু নট ট্রাভেল’ সতর্কতা রয়েছে।
এই সতর্কতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, পবিত্র নগী মক্কার কাছে একটি হুতি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। হুতিরা অবশ্য মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার সৌদি দাবি অস্বীকার করেছে।
কেন সৌদি ভ্রমণ পুনর্বিবেচনার পরামর্শ
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ ভ্রমণ নির্দেশনায় সৌদি আরবে অবস্থান বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কয়েকটি ঝুঁকির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা, সশস্ত্র সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমসংক্রান্ত সৌদি আইন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে বলে মার্কিন নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকলেও বিভিন্ন সময়ে বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
১৫ সেপ্টেম্বর মক্কা ও জেদ্দাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক হুতি হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এসব সতর্কতা জারি করা হয়। পরে সেগুলো প্রত্যাহার করা হলেও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
ইয়েমেন সীমান্তে না যাওয়ার নির্দেশ
সৌদি আরবের সব এলাকার জন্য একই মাত্রার সতর্কতা দেওয়া হয়নি। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণ না করতে বলা হয়েছে।
মার্কিন সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ রয়েছে। তারা ইয়েমেন সীমান্তের ২০ মাইলের মধ্যে যেতে পারবেন না। জিজান, আসির, নাজরান ও কাতিফ প্রদেশে ভ্রমণের জন্য তাদের বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন। কাতিফে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সৌদি আরবে থাকা মার্কিন নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা, জরুরি পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়ার নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরি করা এবং মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা বার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলায় বেড়েছে উদ্বেগ
গত কয়েক দিনে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতি হামলা নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সৌদি আরবের খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইয়ানবু বন্দরে তেল সরবরাহ কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ে। এই পাইপলাইন দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে জেদ্দায় বৈঠক করেছেন। সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন নাগরিকদের কী করতে বলা হয়েছে
সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা অনুসরণ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তনের প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকারের সহায়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজস্বভাবে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।
তবে সতর্কতার অর্থ সৌদি আরবে সব ধরনের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা নয়। দেশটির সামগ্রিক ভ্রমণ সতর্কতা লেভেল-৩, অর্থাৎ ভ্রমণ পুনর্বিবেচনার পরামর্শ। শুধু নির্দিষ্ট উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ক্ষেত্রে ‘ভ্রমণ করবেন না’ নির্দেশনা রয়েছে।
মার্কিন নাগরিকেরা সর্বশেষ নির্দেশনা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সৌদি আরব ভ্রমণ পরামর্শ থেকে যাচাই করতে পারবেন।
