স্পেনে অভিবাসীদের ঢল: মৃত বেড়ে ১৫, সীমান্তে সেনা মোতায়েন করছে স্পেন

মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটা-য় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক হাজার অভিবাসী সমুদ্রপথে সাঁতরে সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে স্পেন সরকার।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিভিল গার্ডকে সহায়তা করতে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে, যাতে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।

কয়েক হাজার অভিবাসীর প্রবেশের চেষ্টা

বৃহস্পতিবার মরক্কো সীমান্তের কংক্রিট বাঁধ বেয়ে হাজারো মানুষ সমুদ্রে নেমে সাঁতরে সিউটায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২ হাজার থেকে ৩ হাজার অভিবাসী সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। যদিও স্পেনের গার্দিয়া সিভিল এ সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে এক পর্যায়ে সীমান্ত ব্যবস্থাকে “সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া” বলে উল্লেখ করা হয়।

সীমান্তে প্রাণহানি

সিউটার উপকূলে পৌঁছানোর আগেই অন্তত ১৫ জন অভিবাসী ডুবে মারা যান। স্পেনের সৈকতে উদ্ধার হওয়া রাবারের টিউব ও সাঁতারের সরঞ্জাম থেকে বোঝা যায়, অনেকেই জীবন বাজি রেখে সমুদ্রপথে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছিলেন।

মরক্কোর সীমান্তবর্তী ফনিদেক এলাকায় অভিবাসীদের ঠেকাতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

মানবপাচার চক্রকে দায় স্পেনের

সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, সিউটা বা মেলিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করে সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।

এর পরই স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, মানবপাচারকারী চক্র এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অনিয়মিত অভিবাসীদের ইউরোপে প্রবেশে উৎসাহিত করছে।

সিউটা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সিউটা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন অভিযোগ করেছে, অভিবাসীদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যেই ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে দেরি করেছে।

ইতালির প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইউরোপের উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থা শেনজেন চুক্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, অনিয়ন্ত্রিত অবৈধ অভিবাসন ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

তবে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস ইতালির এ মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, অভিবাসন ইস্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের কাছ থেকে সংহতি প্রত্যাশা করে স্পেন।

২০২১ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা

বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০২১ সালের সিউটা সংকটের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সে সময় মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার অভিবাসী সিউটায় প্রবেশ করেছিলেন, যা স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।

উল্লেখ্য, সিউটা ও মেলিয়া আফ্রিকা মহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থল সীমান্ত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নজরদারি, সীমান্ত অবকাঠামো এবং মরক্কোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো হলেও অভিবাসীদের ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।