সরকারের অনুমোদিত নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতার হারে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমান পে স্কেলের তুলনায় গ্রেড ও কর্মস্থলভেদে বাড়িভাড়া ভাতার শতাংশ কমানো হলেও মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় টাকার অঙ্কে ভাতার পরিমাণ অনেক ক্ষেত্রেই বাড়বে।
নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়িভাড়া ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকায় বাড়িভাড়া ভাতার হার ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ
বর্তমান ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা পান।
নতুন পে স্কেলে এই হার কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে।
গ্রেডভেদে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হার হবে—
| গ্রেড | বাড়িভাড়া ভাতা |
|---|---|
| ১৬তম থেকে ২০তম | মূল বেতনের ৬০ শতাংশ |
| ১০ম থেকে ১৫তম | মূল বেতনের ৫০ শতাংশ |
| ৫ম থেকে ৯ম | মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ |
| ১ম থেকে ৪র্থ ও তদূর্ধ্ব | মূল বেতনের ৪০ শতাংশ |
অন্যান্য বড় শহরে কত পাবেন
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনসহ কক্সবাজার ও সাভারে বাড়িভাড়া ভাতার হার আলাদা থাকবে।
এসব এলাকায় গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া ভাতা হবে—
| গ্রেড | বাড়িভাড়া ভাতা |
|---|---|
| ১৬তম থেকে ২০তম | মূল বেতনের ৫০ শতাংশ |
| ১০ম থেকে ১৫তম | মূল বেতনের ৪০ শতাংশ |
| ৫ম থেকে ৯ম | মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ |
| ১ম থেকে ৪র্থ ও তদূর্ধ্ব | মূল বেতনের ৩০ শতাংশ |
বর্তমান কাঠামোয় এসব এলাকায় গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া ভাতার হার মূল বেতনের প্রায় ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে।
দেশের অন্যান্য এলাকায় কত
সিটি করপোরেশন ও নির্ধারিত বড় শহরের বাইরের এলাকায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাড়িভাড়া ভাতার হার আরও কম রাখা হয়েছে।
| গ্রেড | বাড়িভাড়া ভাতা |
|---|---|
| ১৬তম থেকে ২০তম | মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ |
| ১০ম থেকে ১৫তম | মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ |
| ৫ম থেকে ৯ম | মূল বেতনের ৩০ শতাংশ |
| ১ম থেকে ৪র্থ ও তদূর্ধ্ব | মূল বেতনের ২৫ শতাংশ |
বর্তমানে এসব এলাকায় গ্রেডভেদে বাড়িভাড়ার হার প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ।
শতাংশ কমলেও টাকার অঙ্কে বাড়তে পারে ভাতা
নতুন পে স্কেলে বাড়িভাড়া ভাতার শতাংশ কমানো হলেও এর অর্থ এই নয় যে সরকারি চাকরিজীবীরা আগের চেয়ে কম টাকা পাবেন।
কারণ নতুন কাঠামোয় মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
ফলে মূল বেতনের তুলনায় বাড়িভাড়ার শতাংশ কমলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত টাকার অঙ্ক আগের তুলনায় বেশি হবে।
কেন বাড়িভাড়ার হার কমানো হলো
মূল বেতন দ্বিগুণ বা তার বেশি বাড়ানোর পর আগের বাড়িভাড়ার হার অপরিবর্তিত রাখা হলে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেত।
এ কারণে জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি অঞ্চল ও গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হার নির্ধারণ করেছে।
মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতাও এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বাড়িভাড়া কার্যকর হবে ২০২৮ সালে
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
তবে বর্ধিত মূল বেতন একবারে দেওয়া হবে না। তিন ধাপে মূল বেতন সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত রয়েছে।
অন্যদিকে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতার নতুন হার ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চিকিৎসা ভাতাও বাড়ছে
নতুন বেতন কাঠামোয় চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানো হচ্ছে।
৫০ বছর বয়স পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর বয়সীদের জন্য এ ভাতা হবে মাসে ৪ হাজার টাকা।
পেনশনভোগীদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সীরা মাসে ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীরা মাসে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।
সব সরকারি চাকরিজীবীর জন্য মোবাইল ভাতা
নতুন পে স্কেলে প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীর জন্য মোবাইল ফোন ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
১ম থেকে ৫ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তারা মাসে ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাসে ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন।
এর পাশাপাশি যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোয় বাড়িভাড়া ভাতার শতাংশ কমলেও মূল বেতন বৃদ্ধির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের মোট আয় কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট গ্রেড, কর্মস্থল ও অন্যান্য ভাতার ওপর।
