কম বেতনের ওপর নির্ভর করে আর প্রবৃদ্ধি নয়, তরুণদের দেশ ছাড়ার প্রবণতায় উদ্বিগ্ন কাবো ভের্দের প্রেসিডেন্ট

cabo-verde-youth-emigration-economic-reforms

কাবো ভের্দে কম বেতনের ওপর নির্ভর করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও উন্নত ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করতে দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) ফোগো দ্বীপের মোস্তেইরোস পৌরসভার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন কাবো ভের্দের প্রেসিডেন্ট। একই দিন ছিল আন্তর্জাতিক যুব দিবস।

জোসে মারিয়া নেভেস বলেন, কাবো ভের্দের অর্থনীতিকে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। শুধু কম মজুরির ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতি পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে আমাদের গতি বাড়াতে হবে। কাবো ভের্দের প্রবৃদ্ধি উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতির প্রতিযোগিতার সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত, কম বেতনের ওপর নয়।”

তরুণদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ

প্রেসিডেন্ট বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে বহু কাবো ভের্দিয়ান দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। বর্তমানে তরুণদের দেশত্যাগ ও জনসংখ্যার বয়স কাঠামোর পরিবর্তন দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

তাঁর মতে, তরুণদের ব্যাপক দেশত্যাগের প্রভাব শ্রমবাজার, অর্থনীতি, উচ্চশিক্ষা এবং দ্বীপগুলোর সামাজিক জীবনে পড়ছে।

তবে অভিবাসনকে শুধু সমস্যা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন নেভেস। তিনি কাবো ভের্দেকে একটি “ট্রান্সন্যাশনাল রাষ্ট্র” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা গবেষক, চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ব্যবসায়ীরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

৬৫ শতাংশ তরুণ বিদেশ যেতে চান

দেশটির তরুণদের মধ্যে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে সাম্প্রতিক একটি পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কাবো ভের্দের জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের (INE) প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬৫ শতাংশ তরুণ বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

মূল কারণ হিসেবে চাকরি ও ভালো বেতনের সন্ধানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তরুণরা।

এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট নেভেস তরুণদের দেশে থাকার মতো পরিবেশ তৈরি এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন।

পরিবহন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সংস্কারের তাগিদ

কাঠামোগত সংস্কারের ক্ষেত্রে পরিবহন, সরকারি প্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কাবো ভের্দের প্রেসিডেন্ট।

তিনি একই সঙ্গে দেশের বড় সমস্যাগুলো মোকাবিলায় রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সংলাপ এবং ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও জোসে মারিয়া নেভেস কাবো ভের্দিয়ানদের “ব্যাপক দেশত্যাগ” নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। মে মাসে দেশটির দুই সমাজবিজ্ঞানীও জানিয়েছিলেন, অভিবাসনের ফলে অর্থনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি পরিবারগুলোর সহায়তা নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে যেসব শিশুর বাবা-মা বিদেশে চলে গেছেন তাদের ক্ষেত্রে।

ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে

কাবো ভের্দে থেকে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতাও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। পর্তুগালের দূতাবাসের কনস্যুলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শেনজেন ও জাতীয় ভিসার আবেদন ২০২৩ সালের তুলনায় ৬২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কাজের উদ্দেশ্যে ইস্যু করা ভিসার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৯৪টি।

ব্যবসায়ী ও নিয়োগদাতারাও কিছু খাতে কর্মী সংকটের কথা বলছেন। ফলে একদিকে তরুণদের বিদেশমুখী প্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে দেশটির অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

প্রেসিডেন্ট নেভেসের মতে, তরুণদের জন্য দেশে পর্যাপ্ত সুযোগ, ভালো কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা তৈরি করতে না পারলে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।