মারাদোনার বিখ্যাত গোলের বল নিলামে বিক্রি, দাম ৩৩ লাখ ডলারের বেশি

maradona-hand-of-goal-ball-auction

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী সেই বলটি অবশেষে নিলামে বিক্রি হয়েছে। ১৯৮৬ ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত গোলের সময় ব্যবহৃত বলটির দাম উঠেছে ৩৩ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্য প্রায় ৪০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

প্রত্যাশার চেয়ে কম দামে বিক্রি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক নিলাম সংস্থা হেরিটেজ অকশনস ঐতিহাসিক বলটি নিলামে তোলে। নিলাম সংস্থাটির প্রত্যাশা ছিল, বলটির দাম অন্তত ১ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে।

তবে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম দামে বলটি বিক্রি হয়। তবুও কয়েক মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হওয়ায় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে বলটির মূল্য আবারও আলোচনায় এসেছে।

ম্যাচের রেফারির কাছে ছিল বলটি

১৯৮৬ বিশ্বকাপে ব্যবহৃত বলটি ছিল বিখ্যাত অ্যাডিডাস আজতেকা মডেলের।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের পর বলটি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন ম্যাচের তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের।

এর আগেও বলটি নিলামে তোলা হয়েছিল। ২০২২ সালে এর জন্য প্রায় ২৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার পর্যন্ত দর উঠেছিল। পরে ২০২৩ সালে আবার নিলামে তোলা হলেও প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় সেটি বিক্রি হয়নি।

মারাদোনার জার্সি বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৯০ কোটি টাকায়

বলটি বিপুল অর্থে বিক্রি হলেও একই ম্যাচের মারাদোনার জার্সির দামের তুলনায় এটি অনেক কম।

২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মারাদোনার পরা জার্সি প্রায় ৯০ কোটি টাকা মূল্যে বিক্রি হয়েছিল। ফুটবল স্মারকের ইতিহাসে সেটি অন্যতম ব্যয়বহুল নিলাম হিসেবে পরিচিত।

কী ছিল ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল?

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের জন্য লড়াইয়ে গিয়ে মারাদোনা বাঁ হাতের সাহায্যে বল জালে পাঠান।

রেফারি আলি বিন নাসের ঘটনাটি স্পষ্টভাবে দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন।

ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতেছিল।

চার মিনিট পরই ‘শতাব্দীর সেরা গোল’

বিতর্কিত গোলের মাত্র চার মিনিট পরেই মারাদোনা ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি অবিস্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করেন।

নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে তিনি একের পর এক ইংল্যান্ডের একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে এগিয়ে যান। এরপর গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান।

সেই গোলটি পরবর্তীতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং অনেকের কাছে ‘শতাব্দীর গোল’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

একই ম্যাচে একটি বিতর্কিত গোল এবং একটি অসাধারণ একক প্রচেষ্টার গোল করে মারাদোনা ফুটবল ইতিহাসে নিজের কিংবদন্তি মর্যাদাকে আরও শক্তিশালী করেছিলেন।

প্রায় চার দশক পরও ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। বলটি নতুন মালিকের হাতে গেলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কমেনি। বরং এই নিলাম আবারও প্রমাণ করল, দিয়েগো মারাদোনা এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক রাত এখনও ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান স্মৃতি।