পর্তুগাল থেকে দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জটিলতা সমাধান করতে গিয়ে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী প্রবাসীর দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন তাকে কার্যালয়ের বাইরে এনে সবার সামনে দুই গালে দুই-তিনটি চড় মারেন।
তবে চড় মারার অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি স্বীকারোক্তি দেননি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, এনআইডির আবেদন কে করেছেন—এ নিয়ে ওই প্রবাসীর সঙ্গে তাদের ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছিল।
অভিযোগকারী প্রবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে পর্তুগালে যান। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর গত ১৪ আগস্ট দেশে ফেরেন। এরপর এনআইডি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে যান।
‘টিকিটসহ সব কাগজপত্র ছিল, তারপরও আমাকে চড় মারা হয়’
ওই প্রবাসীর ভাষ্য, তিনি সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন—এর প্রমাণ হিসেবে বিমানের টিকিটসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র কর্মকর্তাকে দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এনআইডির আবেদনটি তিনি নিজে করেছেন কি না, তা নিয়ে একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রবাসী বলেন, “আমি বলেছি স্যার, আমি প্রবাসী। আমি ১৪ আগস্ট দেশে এসেছি। আমার টিকিট আছে, সব কাগজপত্র আছে। কিন্তু স্যার চেয়ার থেকে উঠে আমাকে বাইরে এনে দুই-তিনটা চড় মারেন। আমার দুই গালে চড় মেরেছেন।”
ঘটনায় অপমানিত ও বিব্রত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি খুবই লজ্জিত। একজন কর্মকর্তা হয়ে এত মানুষের সামনে একজন প্রবাসীকে, একজন রেমিট্যান্সযোদ্ধাকে এভাবে অপমান করা হলো। আমি কী অপরাধ করেছি, সেটাই তো বুঝতে পারিনি।”
ভয় দেখানোরও অভিযোগ
শুধু শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করাই নয়, ঘটনার পর তাকে ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই প্রবাসী।
তার দাবি, নিজেকে প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং জেলা প্রশাসকের কাছে ফোন করে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
দেশের অর্থনীতিতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা একজন প্রবাসী সরকারি সেবা নিতে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
যা বলছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা
অন্যদিকে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন বলেন, এনআইডির আবেদন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ফেস ডিটেকশনসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রবাসী দাবি করছিলেন, আবেদনটি তিনি নিজে করেননি; অন্য কেউ তার হয়ে আবেদন করেছেন।
ঘটনার ব্যাখ্যায় মো. আলাউদ্দীন বলেন, “উনি বারবার অস্বীকার করছিলেন যে আবেদনটা তিনি করেননি। আমরা বলছিলাম, আপনি করেছেন। এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।”
তবে প্রবাসীর দাবি অনুযায়ী তাকে কার্যালয়ের বাইরে নিয়ে চড় মারা এবং পরে ভয় দেখানোর অভিযোগের বিষয়ে কর্মকর্তার এই বক্তব্যে সরাসরি কোনো স্বীকারোক্তি নেই।
ঘটনাটি এখন অভিযোগকারী প্রবাসীর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
