বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। আর দেশভিত্তিক হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স উৎস হয়ে উঠেছে সৌদি আরব। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছে প্রায় ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সৌদি আরব থেকে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড রেমিট্যান্স
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সব দেশ মিলিয়ে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে দেশের মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।
মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশই এসেছে সৌদি আরব থেকে। ফলে একক দেশ হিসেবে প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসের অবস্থান নিয়েছে দেশটি।
শীর্ষ রেমিট্যান্স উৎস দেশ
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী শীর্ষ কয়েকটি উৎস ছিল—
| দেশ | রেমিট্যান্স |
|---|---|
| সৌদি আরব | প্রায় ৫.৮৫ বিলিয়ন ডলার |
| যুক্তরাজ্য | প্রায় ৫.০৭ বিলিয়ন ডলার |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | প্রায় ৪.৫৮ বিলিয়ন ডলার |
| মালয়েশিয়া | প্রায় ৩.৪০ বিলিয়ন ডলার |
| যুক্তরাষ্ট্র | প্রায় ৩.০১ বিলিয়ন ডলার |
শীর্ষ পাঁচ দেশ থেকেই মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬২ শতাংশ এসেছে।
কেন সৌদি আরব থেকে এত বেশি রেমিট্যান্স আসে?
দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব বাংলাদেশিদের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। দেশটির নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, গৃহস্থালি সেবা, কারিগরি কাজসহ বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্সে সৌদি আরবের অংশ ছিল প্রায় ১৬ দশমিক ১ শতাংশ। ওই সময়ে সৌদি আরব থেকে প্রবাসী আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছিল। বাংলাদেশি কর্মীদের সৌদি আরবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকেও এই প্রবৃদ্ধির একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগের তথ্যেও দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন সময়ে বাংলাদেশে সৌদি আরব থেকে প্রায় ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ওই প্রান্তিকের মোট রেমিট্যান্সের ১৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
নতুন অর্থবছরেও সৌদি আরব শীর্ষে
সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন অর্থবছরেও শক্তিশালী রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসেই সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫৮৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
এক বছর আগে একই মাসে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। ফলে জুলাইয়ে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ। দেশভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়েও সৌদি আরব ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স উৎস।
সৌদি রিয়ালের রেটও প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশে কত টাকা হিসেবে পাওয়া যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে সৌদি রিয়ালের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা রেমিট্যান্স প্রতিষ্ঠানের রেটের ওপর।
সৌদি আরব থেকে দেশে অর্থ পাঠানোর আগে তাই বর্তমান বিনিময় হার যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। আজকের সৌদি রিয়ালের টাকার রেট পেজে ১, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি টাকায় কত হচ্ছে—তার হালনাগাদ হিসাব পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া অন্যান্য দেশের মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার জানতে PortuBangla-এর আজকের টাকার রেট বিভাগ দেখা যেতে পারে।
বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর গুরুত্ব
অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। প্রবাসীরা ব্যাংক ও অনুমোদিত রেমিট্যান্স চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠালে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়া, বিনিময় হারের পরিবর্তন এবং বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব বলছে, বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের গুরুত্ব এখনও অত্যন্ত বেশি। আর নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসের তথ্যও সেই ধারা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
