ইউরোপে আশ্রয় আবেদনে এখন শীর্ষে বাংলাদেশিরা, এক মাসে আবেদন ৩,৪৯৫

bangladeshis-top-eu-asylum-applicants

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে প্রথমবার আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে সংখ্যার হিসাবে শীর্ষে উঠে এসেছেন বাংলাদেশিরা। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের ৩ হাজার ৪৯৫ জন নাগরিক EU-ভুক্ত দেশগুলোতে প্রথমবার আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। এক মাস আগেও বাংলাদেশিরা এই তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা Eurostat-এর ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সর্বশেষ মাসিক তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। জুনে বাংলাদেশিদের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৯০টি প্রথমবারের আশ্রয় আবেদন করেছেন আফগানিস্তানের নাগরিকেরা। এরপর সুদানের ২ হাজার ৩৪৫ এবং ভেনেজুয়েলার ১ হাজার ৭৯০ জন নাগরিক রয়েছেন।

তবে এই সংখ্যা দিয়ে আশ্রয় আবেদন অনুমোদনের হার বোঝায় না। এটি শুধু ওই মাসে EU দেশগুলোতে প্রথমবার আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন করা মানুষের সংখ্যা।

এক মাসেই বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে ৬৩৫টি

মে মাসে EU-তে প্রথমবার আশ্রয় চাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮৬০। তখন ভেনেজুয়েলার ৪ হাজার ৪৬৫ এবং আফগানিস্তানের ৩ হাজার ৪২৫ জনের পর বাংলাদেশিরা তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন।

জুনে বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৯৫টিতে। অর্থাৎ এক মাসে আবেদন বেড়েছে ৬৩৫টি বা প্রায় ২২ শতাংশ।

সময়বাংলাদেশিদের প্রথমবার আশ্রয় আবেদন
এপ্রিল ২০২৬২,৬৩০
মে ২০২৬২,৮৬০
জুন ২০২৬৩,৪৯৫

এপ্রিলেও বাংলাদেশিরা ভেনেজুয়েলা ও আফগানিস্তানের পর তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। ওই মাসে বাংলাদেশের ২ হাজার ৬৩০ জন নাগরিক প্রথমবার আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন।

PortuBangla-তে এর আগে মে মাসের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত ইউরোপে আবার বেড়েছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন, মে মাসে প্রায় ৩ হাজার প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।

সামগ্রিক আবেদন কমছে, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র

জুনে EU দেশগুলোতে সব দেশের নাগরিক মিলিয়ে প্রথমবার আশ্রয় আবেদন করেছেন ৩৭ হাজার ৭৫ জন। ২০২৫ সালের জুনের ৫২ হাজার ৫৩৫ জনের তুলনায় এটি ২৯ শতাংশ কম।

এমনকি এক মাসের ব্যবধানেও EU-তে সামগ্রিক আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মে মাসে first-time applicant ছিলেন ৪২ হাজার ৫২৫ জন। জুনে তা ১৩ শতাংশ কমে ৩৭ হাজার ৭৫ জনে নেমেছে।

এই সামগ্রিক নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেই বাংলাদেশিদের আবেদন মে মাসের ২ হাজার ৮৬০ থেকে জুনে ৩ হাজার ৪৯৫ হয়েছে।

তবে মাসভিত্তিক সংখ্যার পরিবর্তনকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে ধরে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ১২ জুন থেকে EU Migration and Asylum Pact কার্যকর হওয়ার পর Eurostat-এর asylum statistics-এর সংজ্ঞা ও সংগ্রহ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। জুলাই ২০২৬ থেকে আগের ‘lodged applications’-এর পরিবর্তে ‘registered asylum applicants’ ভিত্তিতে পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ইতালি ও ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি আবেদন

জুনে নির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশিদের কোন EU দেশে কত আবেদন ছিল, Eurostat-এর সংক্ষিপ্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেই breakdown দেওয়া হয়নি। তাই বাংলাদেশিদের আবেদনকে কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে অনুমান করে যুক্ত করা ঠিক হবে না।

তবে সব জাতীয়তা মিলিয়ে জুনে সবচেয়ে বেশি first-time asylum application গ্রহণ করেছে ইতালি—৯ হাজার ৬৬০টি।

এরপর ফ্রান্সে ৯ হাজার ১৬৫, জার্মানিতে ৪ হাজার ২৬৫ এবং গ্রিসে ৩ হাজার ৯৫৫টি আবেদন জমা পড়ে। এই চার দেশেই EU-এর মোট first-time asylum application-এর ৭৩ শতাংশ জমা পড়েছে।

জনসংখ্যার অনুপাতে অবশ্য গ্রিসে আবেদনকারীর হার ছিল সর্বোচ্চ। প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে সেখানে first-time asylum applicant ছিল ৩৮ দশমিক ২ জন। এরপর আয়ারল্যান্ডে ১৯ দশমিক ৩ এবং লাটভিয়ায় ১৯ জন।

২০২৫ সালেও শীর্ষ আবেদনকারী দেশগুলোর একটি ছিল বাংলাদেশ

বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন শুধু জুনের বিষয় নয়। ২০২৫ সালের পুরো বছরেও EU-তে প্রথমবার আশ্রয় আবেদনকারী প্রধান জাতীয়তাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছিল চতুর্থ।

Eurostat-এর হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ হাজার ৩০০ নাগরিক EU-তে first-time asylum application করেছিলেন। ওই বছর ভেনেজুয়েলার ৮৯ হাজার ৫০০, আফগানিস্তানের ৬৩ হাজার ৮০০ এবং সিরিয়ার প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক আবেদন করেন।

সব দেশের নাগরিক মিলিয়ে ২০২৫ সালে EU-তে first-time asylum applicant ছিল প্রায় ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০। ২০২৪ সালের তুলনায় মোট আবেদন ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছিল।

আবেদন করলেই আশ্রয় পাওয়া যায় না

Eurostat-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন বলতে এমন আবেদন বোঝায় যেখানে কোনো non-EU citizen বা রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি refugee status অথবা subsidiary protection চেয়ে কোনো সদস্য রাষ্ট্রের কাছে সুরক্ষা চান।

২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে EU দেশগুলো মোট ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০টি first-instance asylum decision দিয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ হাজার ৭৮০টি বা ৪১ শতাংশ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ছিল। ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া ব্যক্তিদের ৪৯ শতাংশ refugee status, ২৩ শতাংশ subsidiary protection এবং ২৮ শতাংশ humanitarian status পেয়েছেন।

তবে এই ৪১ শতাংশ EU-এর সব জাতীয়তার সম্মিলিত হার। এটিকে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের acceptance rate হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদন কোন কোন দেশে বেশি হচ্ছে, কত আবেদন অনুমোদিত বা প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে এবং নতুন EU asylum rules-এর কারণে কী পরিবর্তন আসছে—সেগুলো আলাদা তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে।

ইউরোপে অভিবাসন ও প্রত্যাবর্তন নীতিতেও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পরিবর্তন এসেছে। এ বিষয়ে PortuBangla-র ইইউর নতুন অভিবাসী ফেরত নীতিতে উদ্বেগ জাতিসংঘের প্রতিবেদনটিও পড়তে পারেন।