ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন অভিবাসন নীতি শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে, যার আওতায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হচ্ছে। এমন সময়ে ইউরোপের অনেক দেশ অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করলেও ব্যতিক্রমী অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটি প্রায় পাঁচ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
স্পেন সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করা বহু অনথিভুক্ত অভিবাসী আইনগত স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট আবাসিক শর্ত পূরণ করতে হবে।
সরকারের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের শ্রমবাজারে বিদ্যমান কর্মী সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বৈধ কর্মসংস্থানের আওতায় আসার ফলে কর আদায়ও বৃদ্ধি পাবে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে স্পেনে অনেক অভিবাসী চুক্তিবিহীনভাবে কাজ করছেন এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। নতুন নীতির ফলে তারা বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবেন।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে বৈধতা দিলে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য জনসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন নীতিতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করা হচ্ছে। ফলে অবৈধ অভিবাসন রোধে সদস্য দেশগুলোকে অধিকতর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অনেক অভিবাসীর কাছে স্পেনের এই উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাদের মধ্যে লুনা জায়াত নামের এক অভিবাসীর মতো অনেকেই মনে করছেন, এই নীতি তাদের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিয়ে বৈধ কর্মজীবন ও স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ করে দেবে।
