ফ্রান্সে আশ্রয় আবেদনকারীর তালিকায় নবম বাংলাদেশ

france-asylum-applications-bangladesh-ofpra

ফ্রান্সের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক দপ্তর (অফপ্রা) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আন্তর্জাতিক সুরক্ষা আবেদন জমা পড়েছে। আগের বছরের তুলনায় আবেদন ৫.৫ শতাংশ কমলেও শীর্ষ আবেদনকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ এখনও রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত অফপ্রার ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে রেকর্ড ১ লাখ ৫৩ হাজার ৭১৫টি আবেদন জমা পড়ার পর ২০২৫ সালে আবেদন কিছুটা কমেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথমবারের আশ্রয় আবেদন ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪৩টি, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪.৪ শতাংশ কম। তবে পুনর্বিবেচনার আবেদন বেড়ে ৩ হাজার ৭১৩টিতে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি।

ইউক্রেন শীর্ষে, বাংলাদেশ নবম

অফপ্রার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথমবারের আশ্রয় আবেদনকারীদের তালিকায় ইউক্রেন শীর্ষে উঠে এসেছে। দেশটি থেকে ১১ হাজার ৯৮৯টি আবেদন জমা পড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডিআর কঙ্গো (১১ হাজার ৩৩৮টি) এবং টানা সাত বছর শীর্ষে থাকার পর আফগানিস্তান নেমে এসেছে তৃতীয় স্থানে, যেখানে আবেদন হয়েছে ১০ হাজার ৮২২টি।

এরপরের অবস্থানে রয়েছে গিনি, আইভরি কোস্ট, হাইতি, তুরস্ক ও সুদান। শীর্ষ আবেদনকারী দেশগুলোর তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

তবে বাংলাদেশিদের জন্য আশ্রয় পাওয়ার হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। অফপ্রা এবং ফরাসি জাতীয় আশ্রয় আদালতের (সিএনডিএ) যৌথ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের মোট আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৭.৪ শতাংশ, যা এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

সামগ্রিক সুরক্ষা স্বীকৃতি বেড়েছে

বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে অফপ্রা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টির বেশি আবেদন নিষ্পত্তি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০.৩ শতাংশ বেশি।

এ সময়ে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৭৮৩ জন। ফলে সামগ্রিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার দাঁড়িয়েছে ৪১.২ শতাংশ।

অফপ্রা জানিয়েছে, আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর ফলে অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি শরণার্থী ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৭৯ হাজারের বেশি জন্ম সনদ, বিবাহ সনদ ও অন্যান্য নাগরিক নথি ইস্যু করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২.৩ শতাংশ বেশি।