ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ নির্মমভাবে হামলা ও মারধর করেছে। তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে সিজেপির ডাকে আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে হাজারো সমর্থক দিল্লির যন্তর-মন্তর এলাকায় সমবেত হন। পরে তারা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা সংসদ এলাকার উচ্চ নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ও সীমিত মাত্রায় বলপ্রয়োগ করা হয়। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদ ভবনের কয়েকটি প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা একাধিক নিরাপত্তা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও বিক্ষোভকারী সামান্য আহত হন। পরে ১০ থেকে ১৫ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
সংসদ ভবনের নিকটবর্তী কনস্টিটিউশন ক্লাব ও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)-এর আশপাশেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সিজেপির দাবি, ওই এলাকায় তাদের অন্তত সাতজন সমর্থককে আটক করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের উপকমিশনার সচিন শর্মা বলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানায়, যন্তর-মন্তরে পুলিশের সহিংসতা বা ব্যাপক আটকের যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তা সঠিক নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করেছে এবং জনসাধারণকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) চলতি বছরের মে মাসে অভিজিৎ দীপকে ব্যঙ্গধর্মী একটি ডিজিটাল রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসে দলটি।
প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে সিজেপি। বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী, শিল্পী ও ক্রীড়াবিদও দলটির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন।
