ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিলে তদন্ত চলবে, ইইউ আদালতের ঐতিহাসিক রায়

eu-court-sham-marriage-citizenship

ভুয়া বা সুবিধাবাদী বিয়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোনো সদস্য দেশের নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগ থাকলে নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও তদন্ত চালানো যাবে বলে রায় দিয়েছে ইইউর সর্বোচ্চ আদালত।

সম্প্রতি লুক্সেমবার্গভিত্তিক Court of Justice of the European Union এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো অতীতের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড তদন্ত করে তার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারবে, এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরবর্তীতে সেই দেশের নাগরিকত্ব লাভ করলেও।

কী ছিল মামলার ঘটনা?

আদালতের নথি অনুযায়ী, গোপনীয়তার স্বার্থে ‘বেশতামে’ নামে উল্লেখ করা এক অ-ইইউ নাগরিক পড়াশোনার জন্য Ireland যান। ২০১৫ সালে তার ছাত্র ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে তিনি এক আইরিশ নাগরিককে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর তিনি স্বামীর মর্যাদায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে বসবাস ও চলাচলের অধিকার পান। তবে বিয়ের সময়কাল ও পরিস্থিতি নিয়ে আইরিশ কর্তৃপক্ষের সন্দেহ তৈরি হয়। তাদের ধারণা ছিল, বসবাসের অধিকার ধরে রাখার উদ্দেশ্যে এটি একটি ‘ম্যারেজ অব কনভিনিয়েন্স’ বা সুবিধাবাদী বিয়ে হতে পারে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

ইইউ আদালত বলেছে, প্রতারণা বা অধিকারের অপব্যবহার রোধে সদস্য রাষ্ট্রগুলো অতীতের ঘটনাও তদন্ত করতে পারবে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া বিয়ে বা জালিয়াতির বিষয়গুলো অনেক পরে সামনে আসে। রায়ে বলা হয়, “বিপরীত ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হলে সুবিধাবাদী বিয়ে এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড দমনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।”

তদন্ত চললেও অধিকার থাকবে

তবে আদালত একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অর্জিত অধিকার তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা যাবে না।

আদালত স্পষ্ট করেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রতারণা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তি তার নাগরিকত্ব ও আইনি অধিকার ভোগ করতে পারবেন। অর্থাৎ কোনো বিয়েকে শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে ভুয়া ঘোষণা করা যাবে না। যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলাগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করেছে। একদিকে এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নাগরিকত্ব অর্জনে প্রতারণা রোধে আরও শক্তিশালী আইনি ভিত্তি দেবে, অন্যদিকে তদন্তাধীন ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে।

সূত্র: Court of Justice of the European Union (CJEU)