নেদারল্যান্ডসে কঠোর আশ্রয় আইন কার্যকর, ১২ জুন থেকে বদলে যাচ্ছে অভিবাসন নীতি

netherlands-new-asylum-law-immigration-rules

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তির জাতীয় বাস্তবায়ন অনুমোদন করেছে নেদারল্যান্ডসের সিনেট। এর ফলে দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসীদের জন্য আরও কঠোর নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। আগামী ১২ জুন থেকে নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে আশ্রয়প্রার্থীরা আর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাবেন না। তাদের শুধুমাত্র অস্থায়ী বাসস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে, যার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনরায় মূল্যায়নের মাধ্যমে অনুমতি নবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এছাড়া পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রেও কঠোর শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য, অভিবাসন প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং আশ্রয় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আপিলের সময়সীমা কমানো হলো

নতুন আইনের অংশ হিসেবে “ইনটেনশন প্রসিডিউর” নামে পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। আগে কোনো আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের আগে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইএনডি) আবেদনকারীকে সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করত এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ দিত।

এখন সেই সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইএনডির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা চার সপ্তাহ থেকে কমিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডাচ বার অ্যাসোসিয়েশন এই পদক্ষেপকে বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ হিসেবে উল্লেখ করেছে। মানবাধিকার ও আশ্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন সংগঠনও নতুন নীতির সমালোচনা করেছে।

৫০ হাজার আশ্রয়প্রার্থী প্রভাবিত হতে পারেন

আইএনডি জানিয়েছে, ১২ জুনের পর জমা পড়া নতুন আবেদনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ফলে এর আগে আবেদন করা অনেক আশ্রয়প্রার্থীকে সিদ্ধান্তের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়মে প্রায় ৫০ হাজার আশ্রয়প্রার্থী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন।

এমন সময়ে এই আইন কার্যকর হচ্ছে, যখন নেদারল্যান্ডসে অভিবাসীবিরোধী মনোভাব ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

লুসড্রেখট ও অ্যাপেলডর্নসহ কয়েকটি শহরে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে। এছাড়া অভিবাসন ইস্যু বর্তমানে দেশটির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

নেদারল্যান্ডসের পাশাপাশি চেকিয়া, সাইপ্রাস, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভাকিয়াও ইইউ চুক্তির প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ আইন ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। তবে আরও কয়েকটি সদস্য দেশ এখনো জাতীয় আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশন এই চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ৩০০ কোটি ইউরো তহবিল বরাদ্দ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়োমেট্রিক ডেটাবেস ইউরোড্যাকের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত না হলে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হবে।