সাইপ্রাসে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন: ২০২৫ সালে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসী ফেরত

Cyprus migration news

ভূমধ্যসাগরীয় দেশ Cyprus ২০২৫ সালে অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলায় বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে। দেশটি চলতি বছরে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে, যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিকরা।

দেশটির উপ-অভিবাসন ও আশ্রয়মন্ত্রী Nicolas Ioannides জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে নেওয়া কৌশলগত পরিবর্তনের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অভিবাসন পরিস্থিতি যে চাপ তৈরি করেছিল, তা মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা ও কাঠামো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১১ হাজার ৬১০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পুনর্বাসনসহ মোট প্রস্থান সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২৯ জন, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ অভিবাসী স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গেছেন।

ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সিরিয়ার পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া ও নেপালের নাগরিকদের সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যাওয়া অনিয়মিত অভিবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় ফেরতের তালিকায় তারাও শীর্ষে রয়েছে।

সরকার বলছে, এখন আর অনিয়মিত অভিবাসন মানেই দীর্ঘমেয়াদি বসবাস নয়। বরং অনিয়মিত প্রবাহ কমানো, দ্রুত আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তি এবং ফেরত কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বৈধ অভিবাসনের পথও উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে। ইউরোপীয় ব্লু কার্ড, ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা এবং ইউরোপীয় ট্যালেন্ট পুলের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ জনবল আকর্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট Nikos Christodoulides-এর নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যে অভিবাসন খাতে একাধিক সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে। ২০২৪ সালে উপ-অভিবাসন মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে এই খাতে সমন্বয় বাড়ানো হয়, যার ফল ২০২৫ সালেই স্পষ্ট হয়েছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, যেসব অভিবাসী জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে, তাদের ক্ষেত্রে সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলসহ দ্রুত ফেরত পাঠানোর আইনি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় অনিয়মিত অভিবাসন আগমন ৮৬ শতাংশ কমেছে এবং নতুন আশ্রয় আবেদন ৮৭ শতাংশ কমেছে। ফলে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ এসেছে বলে দাবি করছে সরকার।

সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় রেখে অনিয়মিত অভিবাসন কমানো এবং বৈধ অভিবাসনকে আরও সুসংগঠিত করার দিকে জোর দেওয়া হবে।

ফেরত যাওয়া প্রধান দেশগুলোর মধ্যে সিরিয়ার পাশাপাশি ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশ রয়েছে।

২০২২ সালের তুলনায় অনিয়মিত আগমন ৮৬ শতাংশ এবং নতুন আশ্রয় আবেদন ৮৭ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ঝুলে থাকা আশ্রয় আবেদন ২৪ হাজার থেকে কমে হাজারের নিচে নেমে এসেছে।

বর্তমানে সাইপ্রাসে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ বৈধভাবে বসবাস করছেন। তাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার প্রথমবারের মতো একটি জাতীয় কৌশল প্রণয়ন করেছে, যেখানে ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও শ্রমবাজারে সংযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকার বলছে, অভিবাসন নীতিতে অন্তর্ভুক্তি ও নিরাপত্তা—দুটিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।