অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান বহাল, বিদেশি অপরাধীদের বহিষ্কার জোরদার করবে ডেনমার্ক

denmark-immigration-policy-2026

অভিবাসন ইস্যুতে আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসছে না ডেনমার্কের নতুন সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Mette Frederiksen নেতৃত্বাধীন নতুন জোট সরকার জানিয়েছে, বিদেশি অপরাধীদের বহিষ্কার এবং ইউরোপের বাইরে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা আগের মতোই এগিয়ে নেওয়া হবে।

দুই মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনা শেষে নতুন কেন্দ্র-বামপন্থী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন ফ্রেডেরিকসেন। এটি তার টানা তৃতীয় সরকার, যা তাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডেনমার্কের দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে নিতে পারে।

নতুন সরকারের নীতিমালায় বলা হয়েছে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক কল্যাণ সম্প্রসারণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকার বিশেষ করে বিদেশি নাগরিকদের অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার আগের সরকারের সময় শুরু হওয়া বিদেশি অপরাধীদের দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ইউরোপের বাইরে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও কাজ চলবে।

ডেনমার্কের অভিবাসন নীতি ইউরোপের অন্যতম কঠোর হিসেবে পরিচিত। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা থাকলেও দেশটির এই নীতি ইউরোপের বিভিন্ন সরকারের নজর কেড়েছে।

নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ১০ বছরের মধ্যে ডেনিশ নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে দাঁতের চিকিৎসা সুবিধা, ২২ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিনামূল্যে গণপরিবহন এবং ফল ও সবজির ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহার।

সরকারের মতে, সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি মোকাবিলায় এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও দৃঢ় অবস্থান

নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ডেনমার্কের অবস্থান অটুট রাখার ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরকার গঠনের আগে গ্রিনল্যান্ডের দুই সংসদ সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের সমর্থনও নিশ্চিত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে ডেনমার্কের সরকার রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।