ফিনল্যান্ডে নাগরিকত্ব পেতে নতুন পরীক্ষা, অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোরতা

Finland citizenship exam

উত্তর ইউরোপের দেশ Finland অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের জন্য চালু করা হতে পারে একটি “সিভিক কালচার” বা নাগরিক সংস্কৃতি বিষয়ক পরীক্ষা।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে আবেদনকারীরা ফিনিশ সমাজের কার্যপ্রণালী, মৌলিক নীতি এবং সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে কতটা জানেন তা মূল্যায়ন করা হবে। পরীক্ষাটি দিতে হবে ফিনল্যান্ডের দুই প্রধান সরকারি ভাষা—ফিনিশ অথবা সুইডিশের যেকোনো একটিতে।

তবে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আবেদনকারীরা চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অথবা ফিনিশ বা সুইডিশ ভাষায় বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তাদের নাগরিক জ্ঞান প্রমাণ করতে পারবেন।

ফিনল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Mari Rantanen বলেছেন, নাগরিকত্ব “স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না”। তিনি আরও জানান, নতুন এই সংস্কার অভিবাসীদের সমাজে অন্তর্ভুক্তি, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে উৎসাহিত করবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ফিনল্যান্ডের ডানপন্থী জোট সরকার অভিবাসন আইন কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে নাগরিকত্বের জন্য বসবাসের নির্ধারিত সময়, অপরাধমূলক রেকর্ড এবং আর্থিক সক্ষমতার মতো শর্তগুলো আরও কঠোর করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, প্রস্তাবটি সংসদে অনুমোদন পেলে আগামী বছর থেকেই এই পরীক্ষা চালু হতে পারে। পরীক্ষায় ফিনল্যান্ডের প্রধান আইন, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, সমতা, লিঙ্গসমতা, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

একই দিনে সরকার আরও একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা যায়। পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগাম প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরোপ করছে। প্রতিবেশী Sweden-ও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত কঠোর করতে অনুরূপ জ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছে।