পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বাইশা এলাকায় গুলিতে এক সুইডিশ পর্যটক আহত হওয়ার ঘটনায় তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির বিচারিক পুলিশ পিজে। গত ১০ আগস্টের ওই ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পর তিনজনকে আটক করা হলো। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্রের বরাতে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিন সন্দেহভাজন কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এর আগে পিজে তাদের বাড়িতে অভিযান চালালেও সেখানে তাদের পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিত করেননি তিনজনের মধ্যে ঠিক কে গুলি চালিয়েছিলেন।
কী ঘটেছিল লিসবনের বাইশায়?
গত ১০ আগস্ট লিসবনের ব্যস্ত পর্যটন এলাকা বাইশার রুয়া অগুস্তায় কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে বিরোধের সময় গুলির ঘটনা ঘটে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ওই সুইডিশ পর্যটকের সঙ্গে বিরোধে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি ঘটনাস্থলে অবস্থান করার সময় গুলিবিদ্ধ হন। অর্থাৎ বিরোধে অংশ না নিয়েও তিনি গুলির আঘাতের শিকার হন।
গুলিটি তার শরীরের ওপরের অংশে লাগে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরদিন হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি নিজ দেশ সুইডেনে ফিরে যান। তার আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার তদন্ত
ঘটনার পরপরই বিষয়টি লিসবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে।
বর্তমানে আটক তিন ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় কে অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন কিংবা প্রত্যেক সন্দেহভাজনের ভূমিকা কী ছিল, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি।
পর্তুগালে অপরাধ তদন্তে বিচারিক পুলিশের ভূমিকা ও অন্যান্য সরকারি তথ্য জানতে পর্তুগালের বিচারিক পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখা যেতে পারে।
লিসবনের নিরাপত্তা নিয়ে মেয়রের উদ্বেগ
গুলির ঘটনার পর লিসবনের মেয়র কার্লোস মোয়েদাস শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
১৫ সেপ্টেম্বর লিসবন মিউনিসিপ্যাল অ্যাসেম্বলির বৈঠকে তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন নিরাপত্তা পরিস্থিতি তাকে উদ্বিগ্ন করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে লিসবনের জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার বেড়েছে, অথচ একই সময়ে শহরে প্রায় ২ হাজার পুলিশ সদস্য কমেছে। বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার পিএসপি সদস্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এগুলো মেয়রের দেওয়া পরিসংখ্যান ও বক্তব্য। নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাখ্যা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন অবস্থানও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, লিসবনের সোশ্যালিস্ট পার্টির মিউনিসিপ্যাল গ্রুপ শহরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পৌর প্রশাসনের নিজস্ব দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেছে।
৩০০ অতিরিক্ত পুলিশ এখনো যোগ হয়নি
পর্তুগাল সরকার গত মে মাসে লিসবনের জন্য ২০০ অতিরিক্ত পিএসপি সদস্য এবং ১০০ মিউনিসিপ্যাল পুলিশ সদস্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
১৫ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে কার্লোস মোয়েদাস বলেন, ওই অতিরিক্ত সদস্যরা এখনো দায়িত্বে যোগ দেননি। তবে তিনি আশা করছেন, সরকার চলতি বছরের মধ্যেই প্রতিশ্রুত পুলিশ সদস্য সরবরাহ করবে।
সরকারের মে মাসের ঘোষণায় লিসবন ও পোর্তোর পিএসপি কমান্ডে মোট ৪০০ পুলিশ সদস্য বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রতিটি শহরে ২০০ জন করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
লিসবনে নজরদারি ও পুলিশ অবকাঠামো বাড়ানোর উদ্যোগ
লিসবন সিটি কাউন্সিল শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সিসিটিভি নজরদারি সম্প্রসারণ, কয়েকটি পুলিশ স্টেশন সংস্কার এবং পুলিশ সদস্যদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগও নিচ্ছে।
শহরের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে পর্যটন এলাকাগুলোতে পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। আগস্টে গুলির ঘটনার পর বাইশা এবং অন্যান্য পর্যটন এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান বাড়ানোর কথাও জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লিসবনে থাকা প্রবাসীদের জন্য সতর্কতা
লিসবনের বাইশা, রোসিও ও আশপাশের এলাকাগুলো পর্যটক ও প্রবাসীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সাম্প্রতিক ঘটনার পর এসব জনবহুল এলাকায় চলাচলের সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো সহিংসতা বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে সেখানে অবস্থান না করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়া এবং প্রয়োজনে পর্তুগালের জরুরি নম্বর ১১২-এ যোগাযোগ করা উচিত।
পর্তুগালে বসবাস, রেসিডেন্স ও অভিবাসনসংক্রান্ত আরও তথ্য জানতে পড়তে পারেন পর্তুগালে স্থায়ী রেসিডেন্স পারমিটের নিয়ম।
সূত্র: পর্তুগিজ বিচারিক পুলিশ, লুসা, রেনাসেন্সা, পর্তুগাল রেসিডেন্ট ও পর্তুগাল সরকার।
