লিসবন: পর্তুগালে এক বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার বা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার মধ্যেও তার আবাসন আবেদন-সংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা এআইএমএ (AIMA) ও অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আদালতের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
লুসার প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবাসন আবেদন নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এআইএমএকে একটি তারিখ নির্ধারণ করতে হবে। বিষয়টি পর্তুগালের অভিবাসন ব্যবস্থায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বহিষ্কার প্রক্রিয়া এবং কোনো ব্যক্তির আবাসনের আবেদন বিচারাধীন থাকার মধ্যে আইনি ভারসাম্যের প্রশ্ন সামনে এনেছে।
পর্তুগালে বিদেশিদের আবাসন অনুমতির আবেদন সাধারণত এআইএমএ-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দেশটির আইনে আবাসন অনুমতির আবেদন এআইএমএতে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান, দেশ ছাড়ার নির্দেশ বা বহিষ্কারের মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগও রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্তুগালের অভিবাসন ব্যবস্থায় আবাসন আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এআইএমএর জমে থাকা আবেদন কমাতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেয় এবং ২০২৬ সালের মে মাসে সরকার জানায়, অভিবাসন-সংক্রান্ত সেবায় ৭ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি অ্যাপয়েন্টমেন্ট সম্পন্ন এবং ৫ লাখ ২৫ হাজারের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
পর্তুগালের আদালতগুলো এর আগেও আবাসন আবেদন ও এআইএমএর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। ২০২৪ সালের একটি সুপ্রিম অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কোর্টের রায়ে বলা হয়, প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতা কোনো ব্যক্তির মৌলিক অধিকারকে বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত বা তাৎক্ষণিকভাবে হুমকির মুখে ফেললে আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ওই মামলায় আদালতের কাছে আবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি নতুন তারিখ নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছিল।
এদিকে পর্তুগালে অবৈধ অবস্থানকারী বিদেশিদের প্রত্যাবাসন বা বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করার লক্ষ্যে সরকারও আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কারের লক্ষ্য হলো অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বিদেশিদের দেশত্যাগের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করা।
তবে কোনো ব্যক্তির আবাসন আবেদন বা সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলে তার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর হবে, তা পরিস্থিতি ও আদালতের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই এআইএমএর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আদালতের আদেশ—দুই বিষয়ই অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
নতুন এই ঘটনায় এআইএমএকে আবাসন আবেদন-সংক্রান্ত তারিখ নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি পর্তুগালে অভিবাসন প্রশাসনের জবাবদিহি এবং আবেদনকারীদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে আনল।
