পর্তুগালের নতুন বিদেশি ও আশ্রয় আইন সাংবিধানিক আদালতে পর্যালোচনার জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডানপন্থি জনতাবাদী দল CHEGA। প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও হোসে সেগুরো আইনটি অনুমোদন করবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাংবিধানিক আদালতের বিচারকদের মতামত চেয়েছেন।
CHEGA এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছে। দলটি দাবি করেছে, সেউতায় সাম্প্রতিক ব্যাপক অভিবাসন প্রবেশের ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিদেশি ও আশ্রয় আইন বিলম্বিত করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
তবে প্রেসিডেন্ট সেগুরো জানিয়েছেন, আইনটি নিয়ে তার আপত্তির সঙ্গে সাম্প্রতিক সেউতা পরিস্থিতির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বরং মানবাধিকার ও শিশুদের অধিকার রক্ষার বিষয়টিই তার সিদ্ধান্তের মূল কারণ। অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা এবং পর্তুগালের সীমান্ত সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও মানবাধিকার ও মানুষের মর্যাদার বিনিময়ে তা করা উচিত নয় বলে মত দিয়েছেন তিনি।
CHEGA-এর দাবি, প্রস্তাবিত আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশিদের অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে রাখার সময়সীমা বাড়ানো এবং আপিলের ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের বিষয় রয়েছে।
দলটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান নিয়মে ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে কোনো অভিবাসীর আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও তাকে মুক্তি দিতে হতে পারে। CHEGA-এর মতে, এ ধরনের আইনি সুযোগ মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কগুলোকে উৎসাহিত করতে পারে।
প্রস্তাবিত আইনে অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বিদেশি নাগরিকদের রাখার সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৮০ দিন করার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে একই মেয়াদে তা আরও বাড়ানোর সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন আইনটি বিদেশি ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের গ্রহণ, পর্তুগালে প্রবেশ, অবস্থান, প্রস্থান ও বহিষ্কার এবং আশ্রয় প্রদানের আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে সাংবিধানিক আদালত আইনটির প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো পর্তুগালের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পর্যালোচনা না করা পর্যন্ত আইনের বর্তমান অবস্থায় কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
