ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন বায়োমেট্রিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (EES) চালুর পর Portugal-এর Lisbon Airport এবং Faro Airport-এ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে আগত ও বহির্গামী যাত্রীদের।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই Entry/Exit System (EES) চালুর পর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় চার থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অনিশ্চয়তা। যাত্রীরা আগে থেকে বুঝতে পারছেন না কখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকবে আর কখন কয়েক ঘণ্টার জট তৈরি হবে।
RENA অভিযোগ করেছে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও বাস্তবে পর্তুগাল এই নতুন ব্যবস্থার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত ছিল না।
সংগঠনটির মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সতর্কতামূলক ভিডিও এবং দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য বিদেশি পর্যটকদের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এতে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমে পর্তুগালের পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এর আগে Ryanair কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল, অন্তত গ্রীষ্মকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত EES ব্যবস্থা স্থগিত রাখতে।
একজন জনপ্রিয় ট্রাভেল ব্লগার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “গত সপ্তাহে একটি পরিবার লিসবনে নেমে ৬ ঘণ্টা ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের ছোট শিশু স্যুটকেসের ওপর ঘুমিয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত তারা আলগারভে যাওয়ার ট্রান্সফারও মিস করে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি কেবল দুর্ভাগ্য নয়। ২০২৬ সালের পর্তুগালের বাস্তবতা এটি, কিন্তু এখনো অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে না।”
তথ্য অনুযায়ী, Faro Airport বর্তমানে তার সক্ষমতার তুলনায় সাত গুণ বেশি গ্রীষ্মকালীন যাত্রী সামলাচ্ছে। একই সময়ে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত লাগেজ হ্যান্ডলারদের ধর্মঘট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সাররা যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন “ট্রিকস” শেয়ার করছেন, যেগুলোর মাধ্যমে ৩০ মিনিটের মধ্যে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার দাবি করা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ লাইনের এই সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে পর্তুগালের পর্যটন শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন EES সিস্টেম নিরাপত্তা জোরদার করলেও পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও জনবল ছাড়া এটি চালু করায় বর্তমানে যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
Source: SIC Notícias
