বাংলাদেশিদের UAE ভিসা জটিলতা সমাধানে আলোচনা করছে সরকার

UAE visa for Bangladeshi 2026

সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরিপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার এক ফেসবুক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের চলমান ভিসা সমস্যার বিষয়ে অবগত। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

নুরুল হক নুর বলেন, প্রবাসীদের জন্য ইতিবাচক কিছু করা গেলে তা প্রবাসী ও সরকার—উভয়ের জন্যই ভালো হবে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে প্রবাসীদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, সেটিকে যৌক্তিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটির দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও অন্যান্য আমিরাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন।

তবে নতুন কর্মীদের ভিসা পাওয়া এবং বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতার কথা জানিয়ে আসছেন চাকরিপ্রত্যাশী, প্রবাসী ও জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা।

ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক চাকরিপ্রত্যাশী নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেতে পারছেন না। এতে কর্মী ও নিয়োগকারী—দুই পক্ষই সমস্যায় পড়ছে।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ভিসা জটিলতা সমাধানের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা আলোচনার বর্তমান পর্যায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ সরকার এর আগেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে শ্রমভিসার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রমভিসা পুনরায় সহজ করার অনুরোধ জানানো হয়।

সেই আলোচনায় নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ অধিকার ও কল্যাণ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে ঢাকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ–UAE যৌথ কনস্যুলার কমিটির বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে। প্রস্তাবিত বৈঠকে ভিসা, অভিবাসন ও কনস্যুলার সেবাসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।

দুই দেশ প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা CEPA নিয়ে আলোচনা দ্রুত করার বিষয়েও একমত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে ২০২৫ সালেও কূটনৈতিক যোগাযোগ চালানো হয়েছিল। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা বিধিনিষেধ শিথিল করে আরও বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।

তবে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের UAE ভিসা বন্ধ হওয়ার দাবি ছড়িয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস এর আগে এমন কিছু দাবিকে ভুল বলে জানিয়েছিল এবং বলেছিল, বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ ভিসা নিষেধাজ্ঞার কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাই ভিসা পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ না বলে ভিসা জটিলতা বা সীমিত অনুমোদন হিসেবে উল্লেখ করা বেশি নির্ভুল।

প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা অব্যবস্থাপনা ও যথাযথ উদ্যোগের অভাবে প্রবাসীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের উদ্বেগ ও হতাশাকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

ভিসা জটিলতার কারণে চাকরির সুযোগ হারানো, নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে যাওয়া এবং ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়ার পরও যেতে না পারার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অনেক বাংলাদেশি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈধ পথে জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিদের চাকরি পরিবর্তন, নতুন ভিসা গ্রহণ ও পরিবারের সদস্যদের নেওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা হতে পারে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত UAE কর্তৃপক্ষের

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেশটির সংশ্লিষ্ট অভিবাসন ও শ্রম কর্তৃপক্ষ নিয়ে থাকে। ভিসার ধরন, পেশা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, আবেদনকারীর নথি এবং সংশ্লিষ্ট আমিরাতের নিয়মের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারের চলমান আলোচনা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ভিসা ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

চাকরিপ্রত্যাশীদের তাই অনুমোদিত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে ভিসার বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে হবে। আনুষ্ঠানিক ভিসা ও চাকরির চুক্তি হাতে পাওয়ার আগে দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যে ভিসা জটিলতা দ্রুত সমাধানের আশা তৈরি হলেও আলোচনার ফল এবং UAE কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।