পর্তুগালের বিমানবন্দরগুলোতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে আরও ৩৪০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ৪ জুলাই থেকে নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব সদস্য দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনমন্ত্রী লুইস নেভেস বলেছেন, নতুন সদস্যদের মধ্যে ১৪০ জনকে লিসবন বিমানবন্দরে, ১০০ জনকে পোর্তো বিমানবন্দরে এবং বাকিদের ফারো, ফুনচাল ও পন্তা দেলগাদা বিমানবন্দরে নিয়োগ দেওয়া হবে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর পর পর্তুগালের বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তির ঘটনা সামনে আসে। বিশেষ করে লিসবন বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার অভিযোগ করেন অনেক যাত্রী।
লুইস নেভেস বলেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত জনবল যুক্ত করা হয়েছে। শুধু লিসবন বিমানবন্দরেই সম্প্রতি প্রায় ৫০ জন অতিরিক্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পেয়েছেন। এর ফলে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, নতুন জনবলের পাশাপাশি বিমানবন্দরে অতিরিক্ত বুথ স্থাপন, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং যাত্রীসেবার জন্য নতুন অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, নতুন সীমান্ত ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল সমস্যা এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। এসব কারণে যাত্রী প্রক্রিয়াকরণে সময় বেশি লাগছে।
নেভেস বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীদের দ্রুত সেবা দেওয়াও সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমে বিমানবন্দরগুলোকে আরও কার্যকর রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিমানবন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, কিছু প্রতিবেদনে পুরোনো ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পর্তুগালে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সামনের মাসগুলোতে বিমানবন্দরগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সে কারণে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Source: LUSA
