অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে পর্তুগাল সরকার। দেশটিতে ‘অনিয়মিতভাবে’ প্রবেশ করা বিদেশিদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে নতুন একটি আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার আগেই তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আইনি সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন বলছে, প্রস্তাবিত এই আইন অসাংবিধানিক হতে পারে এবং এটি আন্তর্জাতিক শরণার্থী সুরক্ষা নীতিরও লঙ্ঘন ঘটাতে পারে।
প্রস্তাবিত আইনটি মূলত চলতি বছরের মার্চে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত “অবৈধ অভিবাসন দমনে আটটি বড় পদক্ষেপ”-এর অংশ। বর্তমানে বিষয়টি পর্তুগালের পার্লামেন্টে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে অভিবাসীদের রাখার সময়সীমা বর্তমান ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩৬০ দিন পর্যন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের নোটিশ পর্যায় বাতিল করে দ্রুত বহিষ্কারের পথ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার আরও চায়, বহিষ্কার ঠেকানোর বিদ্যমান কিছু আইনি সুরক্ষা কমিয়ে আনতে। এতে শিশুদের ক্ষেত্রেও বহিষ্কারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আপিলের ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশের সুবিধা সীমিত করা এবং পুনরায় পর্তুগালে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।
সরকারের দাবি, বর্তমান আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৪ সালে বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাদের মতে, দুর্বল প্রত্যাবাসন ব্যবস্থা অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের দেশে থেকে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে এবং এতে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, জননিরাপত্তা ও সরকারি সেবায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
সরকার বলছে, নতুন আইন বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে “স্পষ্ট পার্থক্য” তৈরি করবে এবং মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন চক্র দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে আইনটি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে পর্তুগালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। পাবলিক প্রসিকিউশন কাউন্সিল, প্রশাসনিক আদালত কাউন্সিল, পর্তুগিজ রিফিউজি কাউন্সিল এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছে।
বিশেষ করে ইউএনএইচসিআর বলেছে, এই আইন কার্যকর হলে পর্তুগাল আন্তর্জাতিক শরণার্থী সুরক্ষা বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সংস্থাটি আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
পর্তুগিজ রিফিউজি কাউন্সিলও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, সরকার যে পথে এগোচ্ছে তা মানবাধিকার ও আশ্রয় প্রার্থীদের সুরক্ষার জন্য উদ্বেগজনক।
এর আগে গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বিদেশিদের নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত সরকারের আরেকটি প্রস্তাবও দুইবার অসাংবিধানিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। পরে সরকার সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
