শ্রম আইন সংস্কারে বড় পরিবর্তন আনছে পর্তুগাল সরকার

portugal-new-labor-law-reform

পর্তুগিজ সরকার নতুন শ্রম আইন সংস্কারের অংশ হিসেবে একটি বড় বিল অনুমোদন করেছে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পার্লামেন্টে পাঠানো হবে। সরকার বলছে, এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো শ্রমবাজারকে আধুনিক করা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং কর্মীদের জন্য আরও ভালো মজুরি নিশ্চিত করা।

মন্ত্রী পরিষদের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শ্রম, সংহতি ও সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী Rosário Palma Ramalho।

তিনি বলেন, “২১শ শতাব্দীতে শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।”

মন্ত্রী দাবি করেন, OECD দেশগুলোর মধ্যে পর্তুগালের শ্রম আইন বর্তমানে দ্বিতীয় সবচেয়ে কঠোর। এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বাধা তৈরি করছে বলে সরকারের ধারণা।

সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৮ লাখের বেশি তরুণ পর্তুগিজ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এছাড়া দেশের উৎপাদনশীলতা ইউরোপীয় গড়ের তুলনায় ২৮% কম এবং বেতন গড়ে ৩৫% কম। একই সঙ্গে নারী ও পুরুষের বেতনের ব্যবধানও এখনো রয়ে গেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান শ্রম আইনই পর্তুগালকে কম বেতন, কম উৎপাদনশীলতা এবং কর্মজীবী মানুষের দারিদ্র্যের অবস্থায় নিয়ে এসেছে।

তার ভাষায়, “একই নীতি অনুসরণ করে ভিন্ন ফল আশা করা যায় না। তাই এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে।”

সরকারের অনুমোদিত এই নতুন বিলটিতে ৫০টিরও বেশি পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই উপস্থাপিত প্রাথমিক খসড়াকে ভিত্তি করে গত নয় মাসের আলোচনার পর এই পরিবর্তনগুলো যুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এসব পরিবর্তনের মধ্যে ১২টি প্রস্তাব এসেছে UGT থেকে। এছাড়া সামাজিক অংশীদার, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের মতামতও বিবেচনা করা হয়েছে।

সরকারি পর্যায়ের আলোচনা শেষ হলেও এখন শুরু হচ্ছে পার্লামেন্ট পর্যায়ের নতুন আলোচনা।

মন্ত্রী বলেন, “এটি দুই অর্ধের একটি খেলা। সামাজিক সংলাপ ছিল প্রথম অর্ধ। এখন শুরু হচ্ছে পার্লামেন্টারি পর্যায়।”

তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশেষ করে PS এবং Chega যেন কোনো পূর্বধারণা ছাড়া বিলটি বিবেচনা করে।

তবে বিলটি অনুমোদিত হবে কি না তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ António José Seguro ইঙ্গিত দিয়েছেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোর সম্মতি না থাকলে তিনি এই আইন ভেটো দিতে পারেন।

যদিও মন্ত্রী মনে করেন, পার্লামেন্টে আলোচনার পর চূড়ান্ত খসড়া আরও পরিবর্তিত হতে পারে এবং সরকার এখনো আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

সরকার জানিয়েছে, শ্রম আইন সংস্কারের পাশাপাশি কর সংস্কার ও রাষ্ট্র পরিচালনায়ও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী Luís Montenegro-এর সরকার ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত ও করপোরেট কর কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, “শ্রম আইন সংস্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটিই একমাত্র সমাধান নয়। আমরা একসঙ্গে একাধিক সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছি।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংস্কার সফল হলে পর্তুগালের শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর আপত্তি এবং রাজনৈতিক সমর্থনের অভাব বিলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে।